

নোয়াখালীর বসুরহাটে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বুলডোজার দিয়ে ব্যবসায়ী ফিরোজ আলম মিলনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ফিরোজ অ্যান্ড ব্রাদার্স’ এবং ‘হুমায়ুন টিম্বার অ্যান্ড স-মিল’ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাটি এখন অধিকতর তদন্তাধীন। বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জার প্রধান সহযোগী হিসেবে পরিচিত পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম ছারওয়ার বুলবুলসহ ৪৩ জনের বিরুদ্ধে এই লুটপাট ও ভাঙচুরের মামলা দায়ের করা হয়েছে। নোয়াখালী বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ২নং আমলি আদালত, সিআর মামলা নং- ৫৪৩/২০২৪ (কোম্পানীগঞ্জ)। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে বর্তমানে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ভোর রাত ৪টার দিকে আবদুল কাদের মির্জার নির্দেশে প্রায় ২০০-৩০০ জনের এক সশস্ত্র বাহিনী বসুরহাট পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে অবস্থিত ফিরোজ আলম মিলনের স'মিলে অতর্কিত হামলা চালায়। বুলডোজার দিয়ে মিলের সব স্থাপনা মুহূর্তেই মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়। ফিরোজ আলম মিলনের দাবি, ওই জমিটি তিনি ক্রয়সূত্রে মালিক এবং এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা ছিল। কিন্তু আদালতের তোয়াক্কা না করেই কোটি কোটি টাকার ফার্নিচার তৈরির মেশিন, লোহা ও সেগুন কাঠ লুট করে ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ওই জমিতে ‘শিশুপার্ক’-এর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দখল নিশ্চিত করেন তৎকালীন মেয়র ও তার অনুসারীরা। মামলার এজাহারে বসুরহাট পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম ছারওয়ার বুলবুলকে অন্যতম আসামি করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ এবং মামলার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী বুলবুল পৌরসভার সরকারি পদের অপব্যবহার করে আবদুল কাদের মির্জার ব্যক্তিগত বাহিনীর প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মিলনের সমিল গুঁড়িয়ে দেওয়ার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে প্রশাসনিক দোহাই দিয়ে উচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে তদারকি করেছিলেন, যা ছিল সম্পূর্ণ অবৈধ। দীর্ঘ তিন দশক ধরে একই পৌরসভায় কর্মরত থেকে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং হাট-বাজার ইজারা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তার এই বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মুছাপুর থানারহাটে নিজ বাড়িতে গত ডিসেম্বরে তিন তলা ভবন নির্মাণ সহ অবৈধ সাম্রাজ্য, বসুরহাটে স্ত্রী ফেরদৌস আরার নামে ফ্ল্যাট ক্রয়, চর এলাহীতে খামার বাড়ি ও মাছের ঘের, স্ত্রীর নামে ২১ ভরি স্বর্ণ ও বিদেশী প্রসাধনী সামগ্রী, ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অপির দামি মোটরসাইকেল সহ বিপুল অবৈধ সম্পদ রয়েছে। অপরাধ দুর্ণীতি করেও বিএনপির কিছু নেতা ম্যানেজ প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। ব্যবসায়ী ফিরোজ আলম মিলন বলেন, "কাদের মির্জার ডান হাত হিসেবে পরিচিত এই বুলবুলরাই আমাকে পথে বসিয়েছে। আদালতের ইনজাংশন থাকার পরও তারা ডাকাতের মতো আমার কারখানা লুট করেছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।" সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, অভিযুক্ত আসামীদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত গোলাম ছারওয়ার জানান, উপরের নির্দেশে আমি এসব করেছি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্ণীতি বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বিষয়টি এডিয়ে যান। বর্তমানে মামলার প্রধান আসামি আবদুল কাদের মির্জাসহ বেশিরভাগ অভিযুক্ত আত্মগোপনে থাকলেও গোলাম সরওয়ার বুলবুল প্রকাশ্যে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পৌরসভা প্রশাসনিক কার্যক্রম ও তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নোয়াখালীর হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপে বনভূমি, চর ও সী-বিচ এর জায়গা দখলের পর এবার নদী-খাল দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ‘ইব্রাহিম পার্টি’র বিরুদ্ধে। তার অনুমতি ছাড়া নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ায় জেলেদের জাল লুট, মারধর ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। গত শনিবার (১১ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে চর কবিরা সংলগ্ন নদীতে মাছ ধরতে গেলে ভোলার চরফেশন এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মাঝির আড়াই লাখ টাকার জাল লুটের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আব্দুল মাঝি জানান, “আমরা কোরাল জাল ফেলতে গেলে একদল লোক ইব্রাহিম পার্টির নাম বলে আমাদের জোর করে নদী থেকে তুলে নেয়। পরে ইব্রাহিম পার্টি বলেন—‘চার কবিরা থেকে মনপুরার কালকিনি সীমান্ত পর্যন্ত সব আমার। এখানে মাছ ধরতে হলে আমার কাছ থেকে হার (ফার) ভাড়া নিতে হবে, না হলে নৌকা ছিদ্র করে দেব।’ আব্দুল মাঝি আরও বলেন, “হুমকি দিয়ে আমাদের তাড়িয়ে দেওয়ার পর দেখি নদীতে ফেলা আড়াই লাখ টাকার জাল নেই। পরে তার কাছে গেলে প্রথমে অস্বীকার করেন। আমাদের ৮ কেজি ৮০০ গ্রামের একটি কোরাল মাছও নিয়ে যায় তার লোকজন। প্রায় ১০ হাজার টাকার মাছের বিপরীতে মাত্র দুই হাজার টাকা দিয়ে আমাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয়।”এ বিষয়ে ইব্রাহিম পার্টির সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাল লুটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “জাল আমি নিইনি, নৌ-পুলিশ নিয়েছে।” তবে নিঝুম দ্বীপ নৌ-পুলিশ ইনচার্জ আশিক জানান, এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত নন। ঘটনার পর চারদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে গতকাল রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে লুট হওয়া জালের অর্ধেক ফেরত পাঠানো হয় বলে জানান আব্দুল মাঝি। তবে বাকি জাল ফেরত না পাওয়ায় তিনি অভিযুক্তদের বিচার দাবি করেছেন।এদিকে এ ঘটনার মধ্যে গতরাতে নিঝুমদ্বীপের নামারবাজারে বিলাসের চা দোকানে স্থানীয় সোহরাব মাঝির ছেলে রাজিবকে মারধর করে ইব্রাহিম পার্টির ভাতিজা ইলিয়াস। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, সাগরে জাল বসানোর ভাড়া না দেওয়ায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত ১০ জন জেলে জানান, তারা ১০ থেকে ৩০ বছর ধরে নিঝুম দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু বর্তমানে ইব্রাহিম পার্টি ও তার ভাই খায়ের পার্টির গ্রুপকে চাঁদা না দিলে নদী বা সাগরে যাওয়া যায় না। প্রতি হার (ফার) বাবদ ৩০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। জেলেদের অভিযোগ, “চাঁদা না দিলে মারধর, জাল কেটে দেওয়া কিংবা নৌকা ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া সাগর থেকে মাছ এনে তাদের গদিতে দিতে বাধ্য করা হয়, কিন্তু সঠিক মূল্য পাওয়া যায় না। ৮০০ টাকার মাছের দাম দেওয়া হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, ৫০০ টাকার চিংড়ি দেওয়া হয় মাত্র ৬০ টাকা।” খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইব্রাহিম পার্টি বিভিন্ন গ্রুপ তৈরি করে নিঝুম দ্বীপের সী-বিচের উত্তর পাশে শতাধিক দাগ জমি, বনভূমি ও চর এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ দখলে নিয়েছেন। নামার বাজারে বিলাসবহুল হোটেলসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে নৌপুলিশ ইনচার্জ আশিক জানান, ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে নিয়ে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। শনিবার (১১ এপ্রিল) মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘সর্বোসম্মতিক্রমে বোর্ড গ্রহণ করেছে যে, সাকিব আল হাসানের অ্যাভেইলঅ্যাবিলিটি, ফিটনেস এবং অ্যাকসেসিবিলিটির ওপর ভিত্তি করে এবং পাশাপাশি যেখানে খেলা হবে ভেন্যুতে, সেখানে যদি উপস্থিত থাকার মতো ক্যাপাসিটি থাকে, অবশ্যই বোর্ড বা নির্বাচক কমিটি সাকিবকে পরবর্তীতে নির্বাচনের জন্য বিবেচিত করবে।’ সুমন বলেন, ‘আমার সাথে (সাকিবের সঙ্গে) দু-একবার কথা হয়েছে। আমার মূল প্রশ্ন ছিল, সে প্রস্তুত কি না। যেহেতু ও যেখানে আছে, ওখানে ক্রিকেট নিয়মিত হয় না। ট্রেনিংয়ের পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। ফিটনেস ট্রেনিং করা যায়, কিন্তু ক্রিকেট খেলা অত রেগুলার হয় না। আমি আসলে ওর সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে বেশি কথা বলেছি।’ এরপর সাকিবকে দলে ফেরানো ব্যাপারে সুমন বলেন, ‘বাকিটা ওকে (সাকিব) এখানে পাওয়ার ব্যাপার। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আমরা অবশ্যই তাকে লম্বা সময়ের জন্যই চাই।’

পুরোনো বছরের গ্লানি ও নতুন বছরের সুখ-শান্তির আশায় রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের জলে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ বরণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বন থেকে ফুল সংগ্রহ করে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে জলে ভাসিয়ে দেন। পরে বাড়ি ফিরে ফুল ও নিমপাতা দিয়ে ঘর সাজানো হয় এবং বয়োবৃদ্ধদের পা ধুয়ে দিয়ে নতুন কাপড় উপহার দেওয়া হয়। বর্ষবরণের তিনদিনের মূল আনুষ্ঠানিকতার প্রথমদিন রাঙামাটি কেরানি পাহাড় এলাকায় কাপ্তাই হ্রদের জলে ফুল ভাসাতে নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর মানুষরা জড়ো হন। এতে যোগ দেন দেশি বিদেশি অনেক পর্যটক। এ ছাড়া শহরের গজনতলী, রাজবাড়ীঘাটসহ জেলার বিভিন্ন স্থানেও ফুল ভাসানো হয়। ফুল ভাসাতে আসা রত্না ত্রিপুরা বলেন, আমরা প্রতি বছর পুরোনো বছরের গ্লানি ও নতুন বছরের সুখ শান্তির আশায় ফুল বিজুর সকালে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে কাপ্তাই হ্রদের জলে ফুল ভাসাই। ভাসানো শেষে আমরা ফুল ও নিমপাতা দিয়ে ঘর সাজাই। সোমবার (১৩ এপ্রিল) মূল বিজু বা চৈত্রসংক্রান্তি পালন করা হবে। এই দিন নানা ধরনের সবজি দিয়ে বিশেষ তরকারি রান্না করে অতিথিদের আপ্যায়ন এবং মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষ পালন করা হবে। এদিন নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রার্থনা জানাবেন তারা। উৎসব প্রিয় পাহাড়িরা সারা বছর মেতে থাকেন নানা অনুষ্ঠানে। তবে তার সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় বর্ষ বিদায়ের এই উৎসব। চাকমারা বিজু, ত্রিপুরা বৈসুক, মারমারা সাংগ্রাই, তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু, অহমিয়ারা বিহু এভাবে ভিন্ন ভিন্ন নামে পালন করে এই উৎসব।

জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন নোয়াখালীর চার নেত্রী। তারা হলেন, ভিপি শাহনাজ পারভিন, হাসনা জসীমউদ্দিন মওদুদ, শাহীনুর রহমান (সাগর) ও ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী। দল থেকে মনোনয়ন পাবেন বলে তারা সবাই-ই আশাবাদী। এই চার নেত্রীর মধ্যে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান জেলা মহিলা দলের সভাপতি ভিপি শাহনাজ পারভিন। তিনি নোয়াখালী মহিলা কলেজের ৯৪-৯৫ সালের নির্বাচিত ভিপি। জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ছাত্র ফোরামের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন, ১১ বছর জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সাত বছর। ভিপি শাহনাজ পারভিন জেলা বিএনপির সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সাবেক এই অ্যাথলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যও। দলের দুর্দিনে দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে সম্মুখ সারিতে থেকে আন্দোলন করেছেন বলে জানান শাহনাজ পারভিন। তিনি জেলা শহর মাইজদীর হাউজিং এলাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা মওদুদও রয়েছেন মনোনন দৌড়ে। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে শেষ পর্যন্ত দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। তিনিও সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। হাসনা জসীমউদ্দিন মওদুদ পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের মেয়ে। তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে স্বামী ব্যরিস্টার মওদুদ আহমদের ছেড়ে দেওয়া নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি ঢাকায় বসবাস করলেও রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আসেন। মনোনয়ন প্রসঙ্গে হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ বলেন, মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দিয়েছি। আমার স্বামী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ এবং আমি ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এলাকার সেবা করেছি। আলোচনায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট শাহীনুর রহমান সাগরও। কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর রহমান ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। নোয়াখালীর পৌরসভার করিমপুরের বাসিন্দা শাহীনুর রহমান ২০০১ সালে ইডেন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আইন পেশা ও রাজনীতির কারণে ঢাকায় অবস্থান করেন তিনি। ঢাকার রাজনীতিতে সক্রিয় হলেও নোয়াখালীর রাজনীতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কয়েকটি দলীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন এই নেত্রী। মনোনয়নপ্রত্যাশী আরেক নেত্রী ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় জন্ম নেওয়া ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তিনি হাতিয়ার প্রখ্যাত জমিদার ও দানবীর আলহাজ আজহার উদ্দিন মিয়ার বংশধর। ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য নিজ বাসভবন ছেড়ে দেন তিনি। মনোনয়ন প্রসঙ্গে ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলকে বিজয়ী করতে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করেছি। দল আমার প্রতি আস্থা রাখবে বলে আশা করি। সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে জনগণের সেবা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখতে চাই। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদ দৈনিক নোয়াখালী সময় অনলাইন নিউজ পোর্টালকে বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। দলের প্রধান যাচাই-বাছাই করে যাকে মনোনয়ন দেবেন, আমরা তার পক্ষে কাজ করব।

নোয়াখালীর বসুরহাটে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বুলডোজার দিয়ে ব্যবসায়ী ফিরোজ আলম মিলনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ফিরোজ অ্যান্ড ব্রাদার্স’ এবং ‘হুমায়ুন টিম্বার অ্যান্ড স-মিল’ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাটি এখন অধিকতর তদন্তাধীন। বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জার প্রধান সহযোগী হিসেবে পরিচিত পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম ছারওয়ার বুলবুলসহ ৪৩ জনের বিরুদ্ধে এই লুটপাট ও ভাঙচুরের মামলা দায়ের করা হয়েছে। নোয়াখালী বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ২নং আমলি আদালত, সিআর মামলা নং- ৫৪৩/২০২৪ (কোম্পানীগঞ্জ)। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে বর্তমানে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ভোর রাত ৪টার দিকে আবদুল কাদের মির্জার নির্দেশে প্রায় ২০০-৩০০ জনের এক সশস্ত্র বাহিনী বসুরহাট পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে অবস্থিত ফিরোজ আলম মিলনের স'মিলে অতর্কিত হামলা চালায়। বুলডোজার দিয়ে মিলের সব স্থাপনা মুহূর্তেই মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়। ফিরোজ আলম মিলনের দাবি, ওই জমিটি তিনি ক্রয়সূত্রে মালিক এবং এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা ছিল। কিন্তু আদালতের তোয়াক্কা না করেই কোটি কোটি টাকার ফার্নিচার তৈরির মেশিন, লোহা ও সেগুন কাঠ লুট করে ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ওই জমিতে ‘শিশুপার্ক’-এর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দখল নিশ্চিত করেন তৎকালীন মেয়র ও তার অনুসারীরা। মামলার এজাহারে বসুরহাট পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম ছারওয়ার বুলবুলকে অন্যতম আসামি করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ এবং মামলার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী বুলবুল পৌরসভার সরকারি পদের অপব্যবহার করে আবদুল কাদের মির্জার ব্যক্তিগত বাহিনীর প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মিলনের সমিল গুঁড়িয়ে দেওয়ার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে প্রশাসনিক দোহাই দিয়ে উচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে তদারকি করেছিলেন, যা ছিল সম্পূর্ণ অবৈধ। দীর্ঘ তিন দশক ধরে একই পৌরসভায় কর্মরত থেকে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং হাট-বাজার ইজারা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তার এই বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মুছাপুর থানারহাটে নিজ বাড়িতে গত ডিসেম্বরে তিন তলা ভবন নির্মাণ সহ অবৈধ সাম্রাজ্য, বসুরহাটে স্ত্রী ফেরদৌস আরার নামে ফ্ল্যাট ক্রয়, চর এলাহীতে খামার বাড়ি ও মাছের ঘের, স্ত্রীর নামে ২১ ভরি স্বর্ণ ও বিদেশী প্রসাধনী সামগ্রী, ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অপির দামি মোটরসাইকেল সহ বিপুল অবৈধ সম্পদ রয়েছে। অপরাধ দুর্ণীতি করেও বিএনপির কিছু নেতা ম্যানেজ প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। ব্যবসায়ী ফিরোজ আলম মিলন বলেন, "কাদের মির্জার ডান হাত হিসেবে পরিচিত এই বুলবুলরাই আমাকে পথে বসিয়েছে। আদালতের ইনজাংশন থাকার পরও তারা ডাকাতের মতো আমার কারখানা লুট করেছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।" সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, অভিযুক্ত আসামীদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত গোলাম ছারওয়ার জানান, উপরের নির্দেশে আমি এসব করেছি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্ণীতি বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বিষয়টি এডিয়ে যান। বর্তমানে মামলার প্রধান আসামি আবদুল কাদের মির্জাসহ বেশিরভাগ অভিযুক্ত আত্মগোপনে থাকলেও গোলাম সরওয়ার বুলবুল প্রকাশ্যে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পৌরসভা প্রশাসনিক কার্যক্রম ও তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নোয়াখালীর হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপে বনভূমি, চর ও সী-বিচ এর জায়গা দখলের পর এবার নদী-খাল দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ‘ইব্রাহিম পার্টি’র বিরুদ্ধে। তার অনুমতি ছাড়া নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ায় জেলেদের জাল লুট, মারধর ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। গত শনিবার (১১ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে চর কবিরা সংলগ্ন নদীতে মাছ ধরতে গেলে ভোলার চরফেশন এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মাঝির আড়াই লাখ টাকার জাল লুটের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আব্দুল মাঝি জানান, “আমরা কোরাল জাল ফেলতে গেলে একদল লোক ইব্রাহিম পার্টির নাম বলে আমাদের জোর করে নদী থেকে তুলে নেয়। পরে ইব্রাহিম পার্টি বলেন—‘চার কবিরা থেকে মনপুরার কালকিনি সীমান্ত পর্যন্ত সব আমার। এখানে মাছ ধরতে হলে আমার কাছ থেকে হার (ফার) ভাড়া নিতে হবে, না হলে নৌকা ছিদ্র করে দেব।’ আব্দুল মাঝি আরও বলেন, “হুমকি দিয়ে আমাদের তাড়িয়ে দেওয়ার পর দেখি নদীতে ফেলা আড়াই লাখ টাকার জাল নেই। পরে তার কাছে গেলে প্রথমে অস্বীকার করেন। আমাদের ৮ কেজি ৮০০ গ্রামের একটি কোরাল মাছও নিয়ে যায় তার লোকজন। প্রায় ১০ হাজার টাকার মাছের বিপরীতে মাত্র দুই হাজার টাকা দিয়ে আমাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয়।”এ বিষয়ে ইব্রাহিম পার্টির সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাল লুটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “জাল আমি নিইনি, নৌ-পুলিশ নিয়েছে।” তবে নিঝুম দ্বীপ নৌ-পুলিশ ইনচার্জ আশিক জানান, এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত নন। ঘটনার পর চারদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে গতকাল রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে লুট হওয়া জালের অর্ধেক ফেরত পাঠানো হয় বলে জানান আব্দুল মাঝি। তবে বাকি জাল ফেরত না পাওয়ায় তিনি অভিযুক্তদের বিচার দাবি করেছেন।এদিকে এ ঘটনার মধ্যে গতরাতে নিঝুমদ্বীপের নামারবাজারে বিলাসের চা দোকানে স্থানীয় সোহরাব মাঝির ছেলে রাজিবকে মারধর করে ইব্রাহিম পার্টির ভাতিজা ইলিয়াস। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, সাগরে জাল বসানোর ভাড়া না দেওয়ায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত ১০ জন জেলে জানান, তারা ১০ থেকে ৩০ বছর ধরে নিঝুম দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু বর্তমানে ইব্রাহিম পার্টি ও তার ভাই খায়ের পার্টির গ্রুপকে চাঁদা না দিলে নদী বা সাগরে যাওয়া যায় না। প্রতি হার (ফার) বাবদ ৩০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। জেলেদের অভিযোগ, “চাঁদা না দিলে মারধর, জাল কেটে দেওয়া কিংবা নৌকা ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া সাগর থেকে মাছ এনে তাদের গদিতে দিতে বাধ্য করা হয়, কিন্তু সঠিক মূল্য পাওয়া যায় না। ৮০০ টাকার মাছের দাম দেওয়া হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, ৫০০ টাকার চিংড়ি দেওয়া হয় মাত্র ৬০ টাকা।” খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইব্রাহিম পার্টি বিভিন্ন গ্রুপ তৈরি করে নিঝুম দ্বীপের সী-বিচের উত্তর পাশে শতাধিক দাগ জমি, বনভূমি ও চর এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ দখলে নিয়েছেন। নামার বাজারে বিলাসবহুল হোটেলসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে নৌপুলিশ ইনচার্জ আশিক জানান, ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে নিয়ে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। শনিবার (১১ এপ্রিল) মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘সর্বোসম্মতিক্রমে বোর্ড গ্রহণ করেছে যে, সাকিব আল হাসানের অ্যাভেইলঅ্যাবিলিটি, ফিটনেস এবং অ্যাকসেসিবিলিটির ওপর ভিত্তি করে এবং পাশাপাশি যেখানে খেলা হবে ভেন্যুতে, সেখানে যদি উপস্থিত থাকার মতো ক্যাপাসিটি থাকে, অবশ্যই বোর্ড বা নির্বাচক কমিটি সাকিবকে পরবর্তীতে নির্বাচনের জন্য বিবেচিত করবে।’ সুমন বলেন, ‘আমার সাথে (সাকিবের সঙ্গে) দু-একবার কথা হয়েছে। আমার মূল প্রশ্ন ছিল, সে প্রস্তুত কি না। যেহেতু ও যেখানে আছে, ওখানে ক্রিকেট নিয়মিত হয় না। ট্রেনিংয়ের পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। ফিটনেস ট্রেনিং করা যায়, কিন্তু ক্রিকেট খেলা অত রেগুলার হয় না। আমি আসলে ওর সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে বেশি কথা বলেছি।’ এরপর সাকিবকে দলে ফেরানো ব্যাপারে সুমন বলেন, ‘বাকিটা ওকে (সাকিব) এখানে পাওয়ার ব্যাপার। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আমরা অবশ্যই তাকে লম্বা সময়ের জন্যই চাই।’

দক্ষিণ লেবাননের কানা শহরে ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, হামলার পরপরই সিভিল ডিফেন্স দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী শহর টাইরের হাসপাতালগুলোতে পাঠায়। একই সময়ে টাইর জেলার অন্যান্য এলাকাতেও পৃথক হামলা চালানো হয়। মা’রাকা এলাকায় আরেকটি হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, কানা শহরটি অতীতেও ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে। ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালে এখানে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

পুরোনো বছরের গ্লানি ও নতুন বছরের সুখ-শান্তির আশায় রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের জলে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ বরণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বন থেকে ফুল সংগ্রহ করে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে জলে ভাসিয়ে দেন। পরে বাড়ি ফিরে ফুল ও নিমপাতা দিয়ে ঘর সাজানো হয় এবং বয়োবৃদ্ধদের পা ধুয়ে দিয়ে নতুন কাপড় উপহার দেওয়া হয়। বর্ষবরণের তিনদিনের মূল আনুষ্ঠানিকতার প্রথমদিন রাঙামাটি কেরানি পাহাড় এলাকায় কাপ্তাই হ্রদের জলে ফুল ভাসাতে নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর মানুষরা জড়ো হন। এতে যোগ দেন দেশি বিদেশি অনেক পর্যটক। এ ছাড়া শহরের গজনতলী, রাজবাড়ীঘাটসহ জেলার বিভিন্ন স্থানেও ফুল ভাসানো হয়। ফুল ভাসাতে আসা রত্না ত্রিপুরা বলেন, আমরা প্রতি বছর পুরোনো বছরের গ্লানি ও নতুন বছরের সুখ শান্তির আশায় ফুল বিজুর সকালে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে কাপ্তাই হ্রদের জলে ফুল ভাসাই। ভাসানো শেষে আমরা ফুল ও নিমপাতা দিয়ে ঘর সাজাই। সোমবার (১৩ এপ্রিল) মূল বিজু বা চৈত্রসংক্রান্তি পালন করা হবে। এই দিন নানা ধরনের সবজি দিয়ে বিশেষ তরকারি রান্না করে অতিথিদের আপ্যায়ন এবং মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষ পালন করা হবে। এদিন নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রার্থনা জানাবেন তারা। উৎসব প্রিয় পাহাড়িরা সারা বছর মেতে থাকেন নানা অনুষ্ঠানে। তবে তার সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় বর্ষ বিদায়ের এই উৎসব। চাকমারা বিজু, ত্রিপুরা বৈসুক, মারমারা সাংগ্রাই, তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু, অহমিয়ারা বিহু এভাবে ভিন্ন ভিন্ন নামে পালন করে এই উৎসব।

বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যে দ্বন্দ্ব চলছে, তা এক বৈঠকেই শেষ হয়ে দুই দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তি হবে—এমনটা কেউই-ই আশা করেনি বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই। ইসলমাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার হওয়ার পর ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেল আআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন ইসমাইল। সাক্ষৎেকারে বাকাই বলেছেন, “স্বাভাবিকভাবেই, শুরু থেকেই একটি বৈঠকে (যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে) চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা আমাদের করা উচিত ছিল না এবং শুধু আমরাই নই— কেউই এমনটা আশা করেনি। তবে আমাদের বিশ্বাস, পাকিস্তান এবং এ অঞ্চলে অন্যান্য মিত্রদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।” উল্লেখ্য,ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ। তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনই নিহত হন আয়তুল্লাহ খামেনি, যিনি টানা ৩৭ বছর ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী, কন্যা, নাতি, এবং ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রীও নিহত হন, এবং মোজতবা নিজে হন গুরুতর আহত। সংলাপ ও কূটনৈতিক পন্থায় উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১১ এপ্রিল সংলাপে বসেছিলেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা। ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পর কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে সেই বৈঠক। সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল

সৌদি আরবের দাম্মামে কর্মস্থলে দেয়াল চাপা পড়ে মোহাম্মদ ইউসুফ (২৪) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে একটি নির্মাণাধীন ভবনে ইলেকট্রিকের কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মোহাম্মদ ইউসুফ নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার ১ নম্বর ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাহতাবপুর গ্রামের মৃত বেচু মিয়ার ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাত্র তিন মাস আগে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ও জীবিকার তাগিদে ইউসুফ সৌদি আরবে পাড়ি জমান। শুক্রবার বিকেলে দাম্মামের একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় হঠাৎ একটি দেয়াল ধসে তার ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ব্যক্তিগত জীবনে ইউসুফ বিবাহিত ছিলেন। তার আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বাবার আকস্মিক মৃত্যুতে শিশুটি এখন পিতৃহারা, যা পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। ইউসুফের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছালে মাহতাবপুর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। স্থানীয়রা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। নিহতের ভাতিজা আরমান হোসেন জুহিন বলেন, চাচা আমাদের পরিবারের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন। স্বপ্ন ছিল বিদেশে গিয়ে কষ্ট করে পরিবারটাকে ভালোভাবে গুছিয়ে তুলবেন। কিন্তু ভাগ্য এত নির্মম হবে, তা কখনও ভাবিনি। তার এই আকস্মিক মৃত্যু আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই, যেন দ্রুত চাচার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং আমাদের পরিবারকে এই কঠিন সময়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়। সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহসিয়া তাবাসসুম বলেন, মোহাম্মদ ইউসুফের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন দলীয় পরিচয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, দলীয় পরিচয়ে যারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা হামলার মতো অপরাধে জড়াবে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর বগাদিয়া বেগম খালেদা জিয়া মহিলা মাদরাসায় আয়োজিত অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহবুব উদ্দিন খোকন এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি নারী শিক্ষার প্রসারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশে নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে বেগম খালেদা জিয়া যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যার সুফল আজ আমরা ভোগ করছি। অভিভাবক সমাবেশে ব্যারিস্টার খোকন পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ অপরাধ করে পার পাবে না। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল হান্নান জিএস ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক দিদার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান শাকিল এবং সাবেক ভিপি জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় সোনাইমুড়ী উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সুধারাম মডেল থানাধীন নোয়াখালী পৌরসভা ০৬নং ওয়ার্ড আইয়ুবপুর মোমিন মিয়ার বাড়ির বাসিন্দা আসামী মোঃ জাবেদ এর নিজ দখলীয় ভাড়াকৃত দোচালা টিনের বেড়া ও টিনের ছাউনীযুক্ত দক্ষিণ মুখী বসতঘর তল্লাশী করে আলামত উদ্বার ও জব্দকৃত, জেলা-নোয়াখালী। আসামীর নাম ও ঠিকানাঃ মোঃ জাবেদ (২৬), পিতা-মোঃ জামাল, মাতা- বিউটি বেগম, স্থায়ী সাং-মধ্যম করিমপুর (শেখ আহম্মদ মুরী বাড়ি), থানা-সুধারাম মডেল, জেলা- নোয়াখালী, বর্তমান সাং- আইয়ুবপুর (মোমিন মিয়ার বাড়ি/জনৈক মিরাজ মিয়ার ভাড়াটিয়া), ০৬নং ওয়ার্ড, নোয়াখালী পৌরসভা, থানা- সুধারাম মডেল, জেলা- নোয়াখালী। আলামত: ০১। একটি স্বচ্চ পলি প্যাকেটের মধ্যে কমলা বর্ণের অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা নামীয় ট্যাবলেট ১০১ (একশত এক) পিস, ওজন ০৯ (নয়) গ্রাম। ০২। নগদ অর্থ- ২,৩৮০/-(দুই হাজার তিনশত আশি) টাকা। ধারা: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬ (১) এর সারনির ক্রমিক নং-১০ (ক) ও ২৬ (১)।

ইরানের সঙ্গে নির্ধারিত সংলাপে যোগ দিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলাবাদে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধী মার্কিন প্রতিনিধি দল। পাকিস্তানের সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ারফোর্স ২-তে চেপে গতকাল শুক্রবার ওয়াশিংটন থেকে রওনা হয় মার্কিন প্রতিনিধি দলটি। দলে ভ্যান্স ও অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার। মার্কিন প্রতিনিধি দলটির যাত্রা শুরুর পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি দলটিকে কিছু পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছেন। এদিকে ওয়াশিংটন থেকে মার্কিন প্রতিনিধি দলটির রওনা হওয়ার কিছু সময় আগে ইসলামাবাদে পৌঁছে গেছে ইরানি প্রতিনিধি দলটি। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই দলে আরও আছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি, ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল ডিফেন্স কাউন্সিলের সচিব আলী আকবর আহমদিয়ান, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কেজেম ঘারিবাবাদি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসলাইল বাঘাইসহ মোট ৭১ জন কর্মকর্তা।

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ কূটনীতি শুরু হতে যাচ্ছে। এ নিয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি যে অত্যন্ত নাজুক, সেটিও তারা স্বীকার করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের ওপর আস্থার কথা জানান। তবে আলোচনার ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত—এমন কোনো আভাস দেওয়া থেকে বিরত থাকেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, “দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়। সেখানে জেডি (ভ্যান্স), স্টিভ এবং জ্যারেড আছে। আমাদের একটি দক্ষ দল রয়েছে এবং আগামীকাল তারা বৈঠকে বসছে। আমরা দেখব সব কেমন চলছে।” মূলত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং শীর্ষ উপদেষ্টাদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিনিধি দলের কথা উল্লেখ করে তিনি এসব বলেন। একই সময়ে ট্রাম্প এই আলোচনাকে স্পষ্টভাবে কৌশলগত এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও কৌশলগত পয়েন্টগুলোর সঙ্গে জড়িত অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থই শেষ পর্যন্ত এই আলোচনার ফলাফল নির্ধারণ করবে। ট্রাম্প বলেন, “প্রণালিটি (হরমুজ) খুলে যাবে। আমরা যদি কেবল এটি ছেড়ে দিই, তবে এটি এমনিতেই খুলবে।” যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই নৌপথের ওপর নির্ভরশীল নয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আমরা এই প্রণালি ব্যবহার করি না... অন্যান্য দেশগুলো এ কাজে এগিয়ে আসবে।” কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে কোনো বিকল্প পরিকল্পনা (ব্যাকআপ প্ল্যান) আছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি তা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, “এটি সহজ হবে না.. তবে আমরা খুব দ্রুতই পথটি খুলে দিতে পারব।” বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে সরাসরি জানতে চাইলে তিনি উত্তর দেন, “কোনো ব্যাকআপ প্ল্যানের প্রয়োজন নেই।” ট্রাম্পের এসব মন্তব্য তার আত্মবিশ্বাস এবং অনিশ্চয়তা—উভয়ের সংমিশ্রণকেই স্পষ্ট করে তুলেছে। তিনি আলোচনার কলাকৌশল বা প্রক্রিয়াটি পরিকল্পিতভাবে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখলেও এর চূড়ান্ত ফলাফলের ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে যাওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কণ্ঠে ছিল প্রথাগত কূটনীতির সুর। তিনি এই আলোচনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ যাতে কোনো ধরনের কারসাজি বা চতুরতার আশ্রয় নিতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ভ্যান্স বলেন, আলোচনা ‘ইতিবাচক হতে যাচ্ছে’। তবে তেহরানকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, তারা যেন আমাদের সঙ্গে ‘চতুরতা করার চেষ্টা’ না করে। উভয় পক্ষ একই আলোচনার টেবিলে বসলেও তাদের মধ্যে যে গভীর অবিশ্বাস রয়ে গেছে, ভ্যান্সের এই মন্তব্যে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। এমন এক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান নিজেকে কেবল প্রভাব বিস্তারকারী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নয়, বরং একটি ‘সহায়ক প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। দেশটি মূলত আলোচনার দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেয়ে আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত রিজওয়ান সাঈদ শেখ বর্তমান অবস্থাকে একটি ‘কূটনৈতিক প্রচেষ্টার’ ফল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় অনেক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, বিশেষ করে একটি নিবিড় কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমেই বিষয়গুলো আজকের এই ইতিবাচক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে।” এই সাফল্যের জন্য তিনি পাকিস্তানের পাশাপাশি আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামাবাদের এই ভূমিকা একটি বৃহত্তর বহুপাক্ষিক প্রচেষ্টারই অংশ। রিজওয়ান সাঈদ শেখ বলেন, “তুরস্ক, সৌদি আরব এবং মিসরের মতো একাধিক দেশ এক্ষেত্রে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। আরও অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।” প্রতিনিধি দলগুলো পৌঁছাতে শুরু করায় তিনি জানান, “আলোচনা এখন একেবারেই চূড়ান্ত পর্যায়ে।” তার এই মন্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, মূল সংলাপে বসার জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ভিত্তি ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে। আলোচনায় অগ্রগতির মূল শর্ত হিসেবে তিনি প্রারম্ভিক প্রস্তুতিমূলক আলোচনার অনানুষ্ঠানিক সমঝোতাগুলো মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “সংলাপ শুরুর আগে আলোচনায় যেসব বিষয় স্থান পেয়েছে, সেগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা জরুরি। এটি কেবল আলোচনার বাহ্যিক পরিবেশই নয়, বরং মূল আলোচনার বিষয়বস্তুর ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আলোচনা শুরু হওয়ার পর দুই পক্ষের আচরণের ধরন এবং আলাপ-আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটিই হবে এই সফলতার আসল পরীক্ষা।” তিনি বলেন, ইসলামাবাদে যে নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে, তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো উভয় পক্ষের গঠনমূলক মনোভাব। তিনি মনে করেন, আলোচনার মূল বিষয়ের চেয়েও দুই পক্ষের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই তাৎক্ষণিক সাফল্যের চাবিকাঠি হবে। আলোচনাটিকে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এটি একটি চলমান কাজ (ওয়ার্ক ইন প্রগ্রেস)। যদি কোনো বিষয়ে সামান্য পরিবর্তন বা সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়, তবে আলোচনার মাধ্যমেই সেই সমস্যার সমাধান করা হবে। সূত্র : ডন