

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, জোয়ারের পানি ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় পানির নিচে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। এর ফলে কৃষি খাতে প্রাথমিকভাবে ২০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ। এতে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি নামেনি। এতে প্রায় ২১ হাজার ৫২০ হেক্টর আউস ধান, ১ হাজার ৯২০ হেক্টর আমনের বীজতলা, ৯৫০ হেক্টর মৌসুমি শাকসবজি, ৫৮ হেক্টর ফলের বাগান, ৪ হেক্টর মরিচ এবং ১০ হেক্টর পানের বরজসহ প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাতিয়ার চরাঞ্চল ও নিচু এলাকার অধিকাংশ কৃষিজমিতে এখনো হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় অনেক ক্ষেতের ধান পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে সবজির ক্ষেত প্রায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করা কৃষকেরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। চরকিং ইউনিয়নের কৃষক মোজাহের উদ্দিন বলেন, এবার প্রায় দুই একর জমিতে আউস ধান আবাদ করেছিলাম। হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে পুরো জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ধান হলুদ হয়ে নষ্ট হতে শুরু করেছে। কয়েক লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি। এখন সেই টাকা কীভাবে উঠবে, বুঝতে পারছি না। চর ইশ্বর ইউনিয়নের কৃষক মো. ইব্রাহিম বলেন, সবজি চাষ করেই সংসার চলে। বেগুন, ঢেঁড়স ও মরিচের পুরো ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। বাজারে বিক্রি করার মতো কিছুই নেই। সরকারি সহায়তা না পেলে নতুন করে চাষাবাদ করা সম্ভব হবে না। সোনাদিয়া ইউনিয়নের কৃষক মো. শাহ আলম বলেন, বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আগামী মৌসুমের আমন চাষ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নতুন করে বীজ সংগ্রহ ও জমি প্রস্তুত করতে অতিরিক্ত খরচ হবে। আগের বিনিয়োগও শেষ, এখন কী করব বুঝতে পারছি না। পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মো. আহসান বলেন, প্রতি বছরই জলাবদ্ধতায় একই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন। স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে কৃষকেরা চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খাল-নালা ভরাট, পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হওয়া এবং অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের দুর্ভোগ ও ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকেরা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ সবুজ বলেন, অতিবৃষ্টিতে হাতিয়ার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রাথমিক প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

ফেনীতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেডের সাবেক বিক্রয় সহকারী খালেদ সাইফুল্লাহ টিপুকে আট বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে। এ ছাড়া জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্জিত ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ টাকা মূল্যের সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় দেন। অভিযুক্ত খালেদ সাইফুল্লাহ টিপু ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার বক্তারমুন্সী রাজাপুর এলাকার মৃত আবুল হোসেন কানুনগোর ছেলে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নোয়াখালীর পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জহির উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে এসব তথ্য জানান। দুদক সূত্রে জানা যায়, খালেদ সাইফুল্লাহ টিপু ২০০০ সালের ২৩ নভেম্বর থেকে ২০০৪ সালের ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেডের গৌরীপুর কার্যালয়ে বিক্রয় সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭১৮ টাকা ব্যয়ে ৫১৯ দশমিক ৩৭ শতক জমি কেনেন। একইসঙ্গে একটি বাড়ি নির্মাণে ৩৪ লাখ ১৭ হাজার ৪৯১ টাকা ব্যয় দেখান। তবে প্রকৌশলীর মূল্যায়নে ওই বাড়ির নির্মাণ ব্যয় পাওয়া যায় ৬১ লাখ ৭ হাজার ৯৯ টাকা। এতে নির্মাণ ব্যয়ের ২৬ লাখ ৮৯ হাজার ৬০৮ টাকার কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি। এ ছাড়া ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার রামপুর মৌজায় একটি তিনতলা মার্কেট নির্মাণে ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়। দুদকের তদন্তে বাড়ি ও মার্কেট নির্মাণসহ অন্যান্য সম্পদের হিসাব পর্যালোচনা করে খালেদ সাইফুল্লাহ টিপুর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্ত শেষে দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. মশিউর রহমান তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় তাকে তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং ২৭(১) ধারায় পাঁচ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও আরও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। দুদকের নোয়াখালীর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বলেন, তার বিরুদ্ধে পৃথক দুই ধারায় দেওয়া সাজার মোট মেয়াদ ৮ বছর। একইসঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। পাশাপাশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্জিত ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ টাকা মূল্যের সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন।

১২০ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর থ্রিলারে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচে আলবিসেলেস্তেদের হয়ে গোল করেছেন আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ মার্তিনেজ। আর একটি গোল করিয়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কোয়ার্টার ফাইনালের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নেমে আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা কে কেমন পারফর্ম করলেন? ফুটবলবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘গোল ডটকম’-এর ম্যাচ রেটিংয়ের ভিত্তিতে দেখে নেওয়া যাক আলবিসেলেস্তেদের পারফরম্যান্সের ব্যবচ্ছেদ- গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগ সুইসদের হারিয়ে সেমিতে আর্জেন্টিনা, কেমন খেললেন মেসি-আলভারেজরা সেমিফাইনালে উঠে স্কালোনি বললেন, আজ ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (৭/১০): সুইজারল্যান্ডের করা সমতাসূচক গোলটিতে তার তেমন কিছু করার ছিল না। তবে পুরো ম্যাচে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে আর্জেন্টিনাকে বিপদমুক্ত রাখেন এবং ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (৮/১০): রক্ষণ ও আক্রমণ, দুই বিভাগেই ছিলেন অনন্য। ৩টি সফল ড্রিবল, ফাইনাল থার্ডে ৯টি পাস এবং ৩টি গুরুত্বপূর্ণ ক্লিয়ারেন্স করে ম্যাচজুড়ে নজর কেড়েছেন। ক্রিস্টিয়ান রোমেরো (৭/১০): রক্ষণের এই মূল স্তম্ভ বরাবরের মতোই নির্ভরযোগ্য ছিলেন। ১০৬ মিনিটে বদলি হওয়ার আগে ৫টি বল পুনরুদ্ধার এবং ২টি ইন্টারসেপশন করেন। নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (৬/১০): রক্ষণ সামলানোর চেয়ে আক্রমণে ওঠার দিকেই বেশি মনোযোগী ছিলেন। খুব বেশি প্রভাব ফেলতে না পারলেও কয়েকবার ফাউলের শিকার হয়ে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেট-পিস আদায় করেন। নাহুয়েল মলিনা (৬/১০): মাঠের ডান প্রান্ত ধরে নিরলস পরিশ্রম করেছেন। ৮৫ মিনিট মাঠে থেকে ২টি রিকভারি এবং দুটি বল ক্লিয়ার করেন। আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার (৮/১০): দীর্ঘকায় সুইস ডিফেন্ডারদের টপকে দুর্দান্ত হেডে দলকে প্রথম গোল এনে দেন। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক খেলে দুটি সহজ সুযোগ নষ্ট করলেও পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি ছিলেন। লিয়ান্দ্রো পারেদেস (৭/১০): মাঠের প্রতিটি অংশে তার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নিখুঁত পাসিংয়ে মাঝমাঠের ছন্দ ধরে রাখেন। ১১০ মিনিট মাঠে থেকে সর্বোচ্চ ১৩১ বার বল স্পর্শ করার পাশাপাশি ৪ বার বল রিকভারি করেন। এনজো ফার্নান্দেজ (৭/১০): পাসিং ছিল অত্যন্ত নিখুঁত। একটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি ২টি দূরপাল্লার থ্রু-পাসে প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে ভয় ধরিয়েছেন। রদ্রিগো দি পল (৬/১০): দি পলের জন্য আজ দিনটি খুব একটা ভালো ছিল না। মাঝমাঠে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। ৮৫ মিনিট খেলে মাত্র ৪৮ বার বল স্পর্শ করেন এবং প্রতিপক্ষের গোলমুখে পাস দিতে পেরেছেন মাত্র দুটি। লিওনেল মেসি (৮/১০): নিজে গোল না পেলেও তার বুদ্ধিদীপ্ত কর্নার থেকেই ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে। পুরো ১২০ মিনিটে ম্যাচে সর্বোচ্চ ৬টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন। প্রতিপক্ষের গোলমুখে ৪টি শট নেওয়ার পাশাপাশি ৩টি সফল ড্রিবল করেন। জুলিয়ান আলভারেজ (৮/১০): অবশেষে টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম গোলের দেখা পেলেন! ম্যাচের বেশির ভাগ সময় বোতলবন্দী থাকলেও অতিরিক্ত সময়ে ১১২ মিনিটে দুর্দান্ত এক রকেট শটে গোল করে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন। এটি তার ক্যারিয়ারের পঞ্চম বিশ্বকাপ গোল। লাউতারো মার্তিনেজ (৭.৫/১০): ম্যাচের শেষ দিকে বদলি হিসেবে মাত্র ৩৫ মিনিট মাঠে ছিলেন। তাতেই ইনজুরি টাইমে চমৎকার এক ফিল্ড গোল করে সুইসদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন। এছাড়া দলের জন্য আরও ২টি সুযোগ তৈরি করেছেন তিনি।

নোয়াখালীর হাতিয়া-নলচিরা নৌপথে যাত্রী ও মালবাহী যানবাহন নিয়ে ছেড়ে যাওয়া একটি ফেরি মাঝনদী থেকে ঘুরিয়ে আবার ঘাটে ফিরিয়ে আনার অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের দাবি, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদকে ফেরিতে তোলার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে ফেরিতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে হাতিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেছেন ফেরি মহানন্দাের মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকেল সাড়ে ৩টায় চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রী ও মালবাহী যানবাহন নিয়ে যাত্রা শুরু করে ফেরি মহানন্দা। প্রায় ২৩ মিনিট চলার পর হঠাৎ ফেরিটি দিক পরিবর্তন করে আবার চেয়ারম্যান ঘাটে ফিরে আসে। এ সময় ঘাটে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। পরে তিনি তার নেতাকর্মীদের নিয়ে ফেরিতে ওঠেন। এরপর ফেরিটি পুনরায় নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। ঘাট ইজারাদারের প্রতিনিধি জহির বলেন, প্রথমে ফেরির মাস্টার তাকে জানিয়েছিলেন ফেরি ছাড়বে না। পরে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়েই ফেরি ছাড়বে। কিন্তু ছাড়ার প্রায় ২৩ মিনিট পর সেটি আবার ফিরে আসে এমপি হান্নান মাসউদকে নেওয়ার জন্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক যাত্রী জানান, মাঝনদীতে যাওয়ার পর হঠাৎ ফেরি ঘুরে যাওয়ায় তারা বিস্মিত হন। পরে ঘাটে ফিরে দেখেন, এমপি আব্দুল হান্নান মাসউদ ও তার সফরসঙ্গীরা ফেরিতে উঠছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে যাত্রীরা বলেন, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একজন ভিআইপির জন্য শতাধিক যাত্রীর সময় নষ্ট করা এবং মাঝপথ থেকে ফেরি ফিরিয়ে আনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ফেরিটি ঘুরে না এলে ওই সময়ের মধ্যেই নলচিরা ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া সম্ভব হতো। ফেরি মহানন্দার মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ছাড়ার কিছুক্ষণ পর এমপির জন্য ফেরিটি ঘাটে ফিরে আসে। ভিআইপিদের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ফেরির মাস্টার নুরুল আমীন বলেন, ফেরি ছাড়ার পর মেরিন ইঞ্জিনিয়ার তাকে জানান, ঘাটে এমপি এসেছেন এবং ফেরি ঘুরিয়ে তাকে নিতে হবে। পরে নির্দেশনা অনুযায়ী ফেরিঘাটে ফিরিয়ে এনে এমপিকে নিয়ে পুনরায় নলচিরার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করা হয়। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, জুলাই গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি প্রস্তুত করা হচ্ছে। সোমবার (১৩ জুলাই) নোয়াখালী কলেজের ২০২৫-২৬ সেশনের অনার্স প্রথম বর্ষের নবীনবরণ ও শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, শেখ হাসিনা দেশে আসবো আসবো বলে শুনছি। এদিকে সরকার জুলাই গণহত্যার দায়ে তার জন্য ফাঁসির দড়িও প্রস্তুত করছে। আমরা চাই তিনি (শেখ হাসিনা) তাড়াতাড়ি আসুক আর রায়ও দ্রুত কার্যকর হোক। শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে শিবির সভাপতি বলেন, আপনাকে আসতেই হবে এবং বাংলাদেশে যে গণহত্যা চালিয়েছেন, তার জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আপনি দেশে যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন তা আজ পরিষ্কার হয়ে গেছে। আদালতও আপনার বিচারের রায় ঘোষণা করে রেখেছে। সাদ্দাম আরও বলেন, আমরা সরকারকে বলেছি। তিনি (শেখ হাসিনা) একটা বিষধর সাপ। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতেই হবে। মাঝে মাঝে বার্তা দিয়ে তিনি হুঙ্কার ছাড়েন। ডিসেম্বরে দেশে আসছেন। আমরা জানি তার এ ডিসেম্বর কেয়ামত পর্যন্তও দেশে আসবে না। শিবির সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, জুলাই পরবর্তীসময়ে দেশের প্রশাসনগুলোতে নগ্ন দলীয়করণ চলছে। সাদা দল না করলে কোনো জায়গায় ভিসি হতে পারবে না। দুনিয়াতে আর কোনো শিক্ষক নেই যাদের কোয়ালিটি আছে। শুধুমাত্র ছাত্রদল-বিএনপি করলে কোয়ালিটি ঠিক থাকে। নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, এমন সিস্টেমকে আমরা ধিক্কার জানাই। নির্বাচন না দিয়ে তারা নিজেদের প্রশাসক বসিয়েছে। এ সিস্টেমের নতুন বন্দোবস্ত আমরা চাইনি। ছাত্ররা এজন্য জীবন দেয়নি। ছাত্র সংসদ ও ক্যাম্পাস রাজনীতি নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন দিলে কী হয়, সেগুলো আপনারা ডাকসু, চাকসু, রাকসুতে দেখেছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখতে পারছেন। সেখানে কোনো হল-বাণিজ্য, ভর্তি-বাণিজ্য, সিট দখল চলে না। চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি চলে না। গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবার ব্যবসাসহ সব কিছু যখন বন্ধ হয়ে গেছে, তখন তাদের নেতার মিছিল করার জন্য গাঁজাখোর টোকাইদের ৩০০-৫০০ টাকা দিয়ে ভাড়া করে নেতৃত্ব জাহির করছে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার, নোয়াখালী শহর জামায়াতের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাহবুব, সেক্রেটারি মো. বোরহান উদ্দিন, নোয়াখালী কলেজ সভাপতি আবদুল কাদের আল-আমিন, সেক্রেটারি মো. ইব্রাহিম প্রমুখ

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, জোয়ারের পানি ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় পানির নিচে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। এর ফলে কৃষি খাতে প্রাথমিকভাবে ২০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ। এতে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি নামেনি। এতে প্রায় ২১ হাজার ৫২০ হেক্টর আউস ধান, ১ হাজার ৯২০ হেক্টর আমনের বীজতলা, ৯৫০ হেক্টর মৌসুমি শাকসবজি, ৫৮ হেক্টর ফলের বাগান, ৪ হেক্টর মরিচ এবং ১০ হেক্টর পানের বরজসহ প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাতিয়ার চরাঞ্চল ও নিচু এলাকার অধিকাংশ কৃষিজমিতে এখনো হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় অনেক ক্ষেতের ধান পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে সবজির ক্ষেত প্রায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করা কৃষকেরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। চরকিং ইউনিয়নের কৃষক মোজাহের উদ্দিন বলেন, এবার প্রায় দুই একর জমিতে আউস ধান আবাদ করেছিলাম। হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে পুরো জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ধান হলুদ হয়ে নষ্ট হতে শুরু করেছে। কয়েক লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি। এখন সেই টাকা কীভাবে উঠবে, বুঝতে পারছি না। চর ইশ্বর ইউনিয়নের কৃষক মো. ইব্রাহিম বলেন, সবজি চাষ করেই সংসার চলে। বেগুন, ঢেঁড়স ও মরিচের পুরো ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। বাজারে বিক্রি করার মতো কিছুই নেই। সরকারি সহায়তা না পেলে নতুন করে চাষাবাদ করা সম্ভব হবে না। সোনাদিয়া ইউনিয়নের কৃষক মো. শাহ আলম বলেন, বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আগামী মৌসুমের আমন চাষ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নতুন করে বীজ সংগ্রহ ও জমি প্রস্তুত করতে অতিরিক্ত খরচ হবে। আগের বিনিয়োগও শেষ, এখন কী করব বুঝতে পারছি না। পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মো. আহসান বলেন, প্রতি বছরই জলাবদ্ধতায় একই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন। স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে কৃষকেরা চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খাল-নালা ভরাট, পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হওয়া এবং অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের দুর্ভোগ ও ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকেরা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ সবুজ বলেন, অতিবৃষ্টিতে হাতিয়ার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রাথমিক প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী-চাটখিল চার লেন সড়কের পাশের সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে প্রশাসন। রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নতুন করে নির্মিত এসব স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা, আনসার ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, সড়ক বিভাগের চাহিদার ভিত্তিতে এবং সোনাইমুড়ী-চাটখিল চার লেন সড়ক নির্মাণকাজ নির্বিঘ্ন করতে সরকারি জায়গা থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়েছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নতুন করে গড়ে ওঠা এসব স্থাপনা ভেঙে দেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এর আগে গত শনিবার দুপুরে, সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে শনিবার মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে দেড় শতাধিক মানুষ অংশ নেন। ভুক্তভোগীরা জানান, ১৯৬০ সালের পর সড়ক নির্মাণের জন্য সরকার জমি অধিগ্রহণ করলে ভুক্তভোগীরা তাদের মালিকানাধীন ও ভোগদখলীয় জমি স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেন। ২০২৪ সালে সোনাইমুড়ী-চাটখিল-রামগঞ্জ সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প অনুমোদনের পর পুনরায় জায়গা খালি করার নোটিশ পেয়ে তারা স্বেচ্ছায় স্থাপনা সরিয়ে নিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার রাতে সোনাইমুড়ী পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন চেম্পু, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনির ভূঁইয়া, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল ভূঁইয়া, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল ভূঁইয়া ও যুবদল নেতা মোজাম্মেল হোসেন অপুর নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে টিনের বেড়া দিয়ে কলেজ পুকুরপাড় থেকে শিমুলিয়া কালভার্ট পর্যন্ত প্রায় ৩০০ ফুট জায়গা দখলের চেষ্টা করে। অভিযুক্তরা পার্শ্ববর্তী ভানুয়াই গ্রামের বাসিন্দা এবং শিমুলিয়া গ্রামে তাদের কোনো জমি বা ওয়ারিশ নেই। শুধু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা এ ধরনের দখলচেষ্টা চালাচ্ছিলেন। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে দেশটির একটি বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের মদতপুষ্ট হুথি বিদ্রোহীরা। গতকাল সোমবার ঘটেছে এ হামলা। বিজ্ঞাপন ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরানে গিয়েছিল হুথি বিদ্রোহীদের একটি প্রতিনিধি দল। গতকাল তাদের ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু দলটি ফেরার পথে থাকা অবস্থায় সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঘটে এবং এতে বিমানবন্দরের রানওয়ে বিধ্বস্ত হয়। উড়োজাহাজটি পরে যাত্রাপথ পরিবর্তন করে হোদেইদা বিমানবন্দরে অবতরণ করতে বাধ্য হয়। পরে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে ক্ষমতাসীন সৌদিপন্থি ইয়েমেনি সরকার সানা বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করে এবং তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সৌদির দক্ষিণাঞ্চলীয় আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা করে হুথি বিদ্রোহীরা। বিজ্ঞাপন সৌদিতে হামলার পর হুথি বিদ্রোহীদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি গতকাল এক ভিডিওবার্তায় বলেন, “সৌদির অপরাধমূলক আগ্রাসনের জবাব দিতে দেশটির আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী; অভিযানে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।” ইয়েমেনে অভিযানরত সৌদি জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি হামলার তথ্য স্বীকার করে এএফপিকে বলেছেন, “হুথি বিদ্রোহীরা কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে এবং এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহারের মাধ্যমে সেগুলোকে আটকে দিয়ে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।” ইরানের মদতপুষ্ট হুথি বিদ্রোহীরা ২০১৫ সালে সানা দখল করার পর দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আব্দ আল হাদি সৌদিতে পালিয়ে আসেন। তারপর ওই ইয়েমেনে অভিযান শুরু করে সৌদি কোয়ালিশন বাহিনী। বর্তমানে ইয়েমেন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। দেশটির উত্তরাঞ্চল শাসন করছে সৌদিপন্থি সরকার এবং দক্ষিণাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে হুথি বিদ্রোহীরা। বিজ্ঞাপন ২০২২ সালে সৌদি এবং হুথিদের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তি স্বাক্ষরের ৪ বছর পর প্রথম তা ভঙ্গ করে সৌদিতে হামলা চালাল হুথি বিদ্রোহীরা। তবে ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশেদ আল আলিমি জানিয়েছেন, তিনি সৌদির সঙ্গে উত্তেজনা বাড়াতে আগ্রহী নন।

ফেনীতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেডের সাবেক বিক্রয় সহকারী খালেদ সাইফুল্লাহ টিপুকে আট বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে। এ ছাড়া জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্জিত ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ টাকা মূল্যের সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় দেন। অভিযুক্ত খালেদ সাইফুল্লাহ টিপু ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার বক্তারমুন্সী রাজাপুর এলাকার মৃত আবুল হোসেন কানুনগোর ছেলে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নোয়াখালীর পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জহির উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে এসব তথ্য জানান। দুদক সূত্রে জানা যায়, খালেদ সাইফুল্লাহ টিপু ২০০০ সালের ২৩ নভেম্বর থেকে ২০০৪ সালের ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেডের গৌরীপুর কার্যালয়ে বিক্রয় সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭১৮ টাকা ব্যয়ে ৫১৯ দশমিক ৩৭ শতক জমি কেনেন। একইসঙ্গে একটি বাড়ি নির্মাণে ৩৪ লাখ ১৭ হাজার ৪৯১ টাকা ব্যয় দেখান। তবে প্রকৌশলীর মূল্যায়নে ওই বাড়ির নির্মাণ ব্যয় পাওয়া যায় ৬১ লাখ ৭ হাজার ৯৯ টাকা। এতে নির্মাণ ব্যয়ের ২৬ লাখ ৮৯ হাজার ৬০৮ টাকার কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি। এ ছাড়া ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার রামপুর মৌজায় একটি তিনতলা মার্কেট নির্মাণে ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়। দুদকের তদন্তে বাড়ি ও মার্কেট নির্মাণসহ অন্যান্য সম্পদের হিসাব পর্যালোচনা করে খালেদ সাইফুল্লাহ টিপুর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্ত শেষে দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. মশিউর রহমান তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় তাকে তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং ২৭(১) ধারায় পাঁচ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও আরও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। দুদকের নোয়াখালীর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বলেন, তার বিরুদ্ধে পৃথক দুই ধারায় দেওয়া সাজার মোট মেয়াদ ৮ বছর। একইসঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। পাশাপাশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্জিত ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ টাকা মূল্যের সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন।

১২০ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর থ্রিলারে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচে আলবিসেলেস্তেদের হয়ে গোল করেছেন আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ মার্তিনেজ। আর একটি গোল করিয়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কোয়ার্টার ফাইনালের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নেমে আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা কে কেমন পারফর্ম করলেন? ফুটবলবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘গোল ডটকম’-এর ম্যাচ রেটিংয়ের ভিত্তিতে দেখে নেওয়া যাক আলবিসেলেস্তেদের পারফরম্যান্সের ব্যবচ্ছেদ- গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগ সুইসদের হারিয়ে সেমিতে আর্জেন্টিনা, কেমন খেললেন মেসি-আলভারেজরা সেমিফাইনালে উঠে স্কালোনি বললেন, আজ ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (৭/১০): সুইজারল্যান্ডের করা সমতাসূচক গোলটিতে তার তেমন কিছু করার ছিল না। তবে পুরো ম্যাচে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে আর্জেন্টিনাকে বিপদমুক্ত রাখেন এবং ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (৮/১০): রক্ষণ ও আক্রমণ, দুই বিভাগেই ছিলেন অনন্য। ৩টি সফল ড্রিবল, ফাইনাল থার্ডে ৯টি পাস এবং ৩টি গুরুত্বপূর্ণ ক্লিয়ারেন্স করে ম্যাচজুড়ে নজর কেড়েছেন। ক্রিস্টিয়ান রোমেরো (৭/১০): রক্ষণের এই মূল স্তম্ভ বরাবরের মতোই নির্ভরযোগ্য ছিলেন। ১০৬ মিনিটে বদলি হওয়ার আগে ৫টি বল পুনরুদ্ধার এবং ২টি ইন্টারসেপশন করেন। নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (৬/১০): রক্ষণ সামলানোর চেয়ে আক্রমণে ওঠার দিকেই বেশি মনোযোগী ছিলেন। খুব বেশি প্রভাব ফেলতে না পারলেও কয়েকবার ফাউলের শিকার হয়ে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেট-পিস আদায় করেন। নাহুয়েল মলিনা (৬/১০): মাঠের ডান প্রান্ত ধরে নিরলস পরিশ্রম করেছেন। ৮৫ মিনিট মাঠে থেকে ২টি রিকভারি এবং দুটি বল ক্লিয়ার করেন। আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার (৮/১০): দীর্ঘকায় সুইস ডিফেন্ডারদের টপকে দুর্দান্ত হেডে দলকে প্রথম গোল এনে দেন। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক খেলে দুটি সহজ সুযোগ নষ্ট করলেও পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি ছিলেন। লিয়ান্দ্রো পারেদেস (৭/১০): মাঠের প্রতিটি অংশে তার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নিখুঁত পাসিংয়ে মাঝমাঠের ছন্দ ধরে রাখেন। ১১০ মিনিট মাঠে থেকে সর্বোচ্চ ১৩১ বার বল স্পর্শ করার পাশাপাশি ৪ বার বল রিকভারি করেন। এনজো ফার্নান্দেজ (৭/১০): পাসিং ছিল অত্যন্ত নিখুঁত। একটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি ২টি দূরপাল্লার থ্রু-পাসে প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে ভয় ধরিয়েছেন। রদ্রিগো দি পল (৬/১০): দি পলের জন্য আজ দিনটি খুব একটা ভালো ছিল না। মাঝমাঠে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। ৮৫ মিনিট খেলে মাত্র ৪৮ বার বল স্পর্শ করেন এবং প্রতিপক্ষের গোলমুখে পাস দিতে পেরেছেন মাত্র দুটি। লিওনেল মেসি (৮/১০): নিজে গোল না পেলেও তার বুদ্ধিদীপ্ত কর্নার থেকেই ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে। পুরো ১২০ মিনিটে ম্যাচে সর্বোচ্চ ৬টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন। প্রতিপক্ষের গোলমুখে ৪টি শট নেওয়ার পাশাপাশি ৩টি সফল ড্রিবল করেন। জুলিয়ান আলভারেজ (৮/১০): অবশেষে টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম গোলের দেখা পেলেন! ম্যাচের বেশির ভাগ সময় বোতলবন্দী থাকলেও অতিরিক্ত সময়ে ১১২ মিনিটে দুর্দান্ত এক রকেট শটে গোল করে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন। এটি তার ক্যারিয়ারের পঞ্চম বিশ্বকাপ গোল। লাউতারো মার্তিনেজ (৭.৫/১০): ম্যাচের শেষ দিকে বদলি হিসেবে মাত্র ৩৫ মিনিট মাঠে ছিলেন। তাতেই ইনজুরি টাইমে চমৎকার এক ফিল্ড গোল করে সুইসদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন। এছাড়া দলের জন্য আরও ২টি সুযোগ তৈরি করেছেন তিনি।

নোয়াখালীর হাতিয়া-নলচিরা নৌপথে যাত্রী ও মালবাহী যানবাহন নিয়ে ছেড়ে যাওয়া একটি ফেরি মাঝনদী থেকে ঘুরিয়ে আবার ঘাটে ফিরিয়ে আনার অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের দাবি, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদকে ফেরিতে তোলার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে ফেরিতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে হাতিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেছেন ফেরি মহানন্দাের মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকেল সাড়ে ৩টায় চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রী ও মালবাহী যানবাহন নিয়ে যাত্রা শুরু করে ফেরি মহানন্দা। প্রায় ২৩ মিনিট চলার পর হঠাৎ ফেরিটি দিক পরিবর্তন করে আবার চেয়ারম্যান ঘাটে ফিরে আসে। এ সময় ঘাটে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। পরে তিনি তার নেতাকর্মীদের নিয়ে ফেরিতে ওঠেন। এরপর ফেরিটি পুনরায় নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। ঘাট ইজারাদারের প্রতিনিধি জহির বলেন, প্রথমে ফেরির মাস্টার তাকে জানিয়েছিলেন ফেরি ছাড়বে না। পরে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়েই ফেরি ছাড়বে। কিন্তু ছাড়ার প্রায় ২৩ মিনিট পর সেটি আবার ফিরে আসে এমপি হান্নান মাসউদকে নেওয়ার জন্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক যাত্রী জানান, মাঝনদীতে যাওয়ার পর হঠাৎ ফেরি ঘুরে যাওয়ায় তারা বিস্মিত হন। পরে ঘাটে ফিরে দেখেন, এমপি আব্দুল হান্নান মাসউদ ও তার সফরসঙ্গীরা ফেরিতে উঠছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে যাত্রীরা বলেন, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একজন ভিআইপির জন্য শতাধিক যাত্রীর সময় নষ্ট করা এবং মাঝপথ থেকে ফেরি ফিরিয়ে আনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ফেরিটি ঘুরে না এলে ওই সময়ের মধ্যেই নলচিরা ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া সম্ভব হতো। ফেরি মহানন্দার মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ছাড়ার কিছুক্ষণ পর এমপির জন্য ফেরিটি ঘাটে ফিরে আসে। ভিআইপিদের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ফেরির মাস্টার নুরুল আমীন বলেন, ফেরি ছাড়ার পর মেরিন ইঞ্জিনিয়ার তাকে জানান, ঘাটে এমপি এসেছেন এবং ফেরি ঘুরিয়ে তাকে নিতে হবে। পরে নির্দেশনা অনুযায়ী ফেরিঘাটে ফিরিয়ে এনে এমপিকে নিয়ে পুনরায় নলচিরার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করা হয়। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল আবেদীন ফারুক বলেছেন, আওয়ামী লীগের ইয়াবা ব্যবসা এখন আমাদের কিছু কিছু নেতার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ইয়াবা ব্যবসার এখন নতুন হাত বদল হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টায় নোয়াখালীর সেনবাগে কানকিরহাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে ডা. মফজলুর রহমান মজুমদার (মকু চেয়ারম্যান) ফাউন্ডেশন বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬-এর সনদ ও বৃত্তির অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন, জয়নুল আবেদীন ফারুক বলেন, নিমতলা থেকে কালিতলা পর্যন্ত সব আমি চিনি। এলাকায় যারা ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তারা আজ থেকেই সাবধান হয়ে যান। জোহরের নামাজ পড়ে তওবা করুন। যদি আবারও শুনি কেউ ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাহলে ছাড় দেওয়া হবে না। ৮ নম্বর ইউনিয়নের রকি ও পাইলটের মতো যুবদলের বড় নেতাকেও জেলে পাঠানো হয়েছে। সময় থাকতে তওবা করুন, না হলে জেলে যেতে হবে। এসময় তিনি দলের নেতাকর্মীদের মাদক, চাঁদাবাজি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও ইঙ্গিত দেন। জয়নুল আবেদীন ফারুক বলেন, গত ১৬ বছর দেশে কোনো গণতন্ত্র ছিল না, ছিল স্বৈরতন্ত্র। বাংলাদেশের সংবিধানকে গলাটিপে হত্যা করেছিল ভারতীয় দাসত্ববাদ ও লুটেরা সরকার। সোয়া যুগ পর দেশে নির্বাচিত সরকার এসেছে। তাই বর্তমান সরকারকে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। ভুল করলে মানুষের কাছে তা স্বীকার করতে হবে, তাহলে মানুষ ক্ষমা করে দেবে। তিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনার মতো জোর করে ভোটকেন্দ্র দখল করার দল নই। বিএনপি জনগণের ভোটেই বিশ্বাস করে। জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে রাজনীতি করার জন্যও নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। জার্মানপ্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক শওকত আলী মজুমদার জাখিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোক্তার হোসেন পাটোয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন বাহার, জেলা বিএনপির সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন, সেনবাগ পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির হুমু, কেশারপাড় ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সেলিম চৌধুরী, বিএনপি নেতা আবু ইউসুফ মজুমদার, সানজিদ কামালসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শেষে বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী ১৫০ জন শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ ও বৃত্তির অর্থ তুলে দেন অতিথিরা।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শনিবার (১১ জুলাই) দমকা হাওয়া, বজ্রপাত এবং বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ অবস্থায় ঢাকাসহ ১৬টি অঞ্চলের নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত বিশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, এসব এলাকার কোথাও কোথাও দমকা বাতাসের সঙ্গে বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টিও হতে পারে। সম্ভাব্য প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণ, জোয়ারের পানি এবং অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের প্রায় ৮০টি গ্রাম এখনো জলাবদ্ধতায় ডুবে রয়েছে। কিছু এলাকায় পানি কমতে শুরু করলেও অন্তত ৫০ হাজার মানুষ এখনও পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রান্নার চুলা তলিয়ে যাওয়ায় বহু পরিবার ঠিকমতো খাবার রান্না করতে পারছে না। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। অন্যদিকে আমনের বীজতলা, সবজিক্ষেত ও মাছের ঘের তলিয়ে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক ও মৎস্যচাষীরা। উপজেলার নিঝুমদ্বীপ, সোনাদিয়া, বুডিরচর, হরনী, চানন্দী, চরকিং, সুখচর, নলচিরা, জাহাজমারা, তমরদ্দি ও চর ঈশ্বর ইউনিয়নসহ হাতিয়া পৌরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও বাড়িঘরের আঙিনা, কোথাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবার কোথাও কাঁচা-পাকা সড়ক ও হাটবাজার পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় ঘরের ভেতরেও হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, টানা বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারের পানি যুক্ত হওয়ায় নিচু এলাকার পানি বের হওয়ার সুযোগ পায়নি। ফলে ঘরবাড়ি, রান্নাঘর, টয়লেট এবং গবাদিপশুর আশ্রয়স্থল পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবার কয়েক দিন ধরে শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। নিরাপদ খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে হাতিয়ার ৮০ গ্রাম, পানিবন্দী ৫০ হাজার মানুষ বন্যা মোকাবিলায় চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী মোতায়েন জলাবদ্ধতার সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে কৃষি ও মৎস্য খাতে। হাজার হাজার একর আমনের বীজতলা, মৌসুমি সবজিক্ষেত ও মাছের ঘের পানিতে ডুবে গেছে। অনেক ঘের থেকে মাছ ভেসে যাওয়ায় ক্ষুদ্র মৎস্যচাষীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল প্রায় বন্ধ। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্বজনদের। টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে হাতিয়ার ৮০ গ্রাম, পানিবন্দী ৫০ হাজার মানুষ বন্যার ঝুঁকিতে আরও ৫ জেলা স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, খাল-নালা ভরাট এবং টেকসই বেড়িবাঁধের অভাবে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমাদের চারপাশে কোনো বেড়িবাঁধ নেই। জোয়ার এলেই পানি উঠে যায়। এবার ছয় দিনের টানা বৃষ্টিতে রান্নাঘর ডুবে গেছে। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। দ্রুত পানি না নামলে আরও বিপদ হবে।’ বুডিরচর ইউনিয়নের কৃষক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমনের বীজতলা, সবজিক্ষেত ও মাছের ঘের—সব শেষ। কয়েক মাসের পরিশ্রম এক বৃষ্টিতেই নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে চাষ করার মতো পুঁজিও নেই।’ নলচিরা ইউনিয়নের রিকশাচালক মো. আমির বলেন, ‘রাস্তায় পানি থাকায় মানুষ ঘর থেকে বের হয় না। সারাদিন রিকশা নিয়ে বসে থাকি। মালিকের ভাড়া তুলতে পারছি না। সংসার চালানোই কঠিন হয়ে গেছে।’ হাতিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আনিসুর রহমান বলেন, হাতিয়া উপজেলায় প্রায় ৭০-৮০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্ধী। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তার প্রস্তুতি রয়েছে। পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আফ্রিনা বেগম বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে আমাদের এলাকা পানিতে তলিয়ে আছে। চুলা ডুবে গেছে, রান্না করা যাচ্ছে না। নলকূপও পানির নিচে। বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র। সরকারিভাবে সামান্য কিছু শুকনো খাবার দেওয়া হলেও সবাই তা পায়নি। দ্রুত ত্রাণ না এলে অনেক পরিবার না খেয়ে থাকবে।’ হরনী ইউনিয়নের বাসিন্দা নাসিমা আক্তার বলেন, ‘বাড়ির ভেতর হাঁটুসমান পানি। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। রাতে ভয়ে ঘুম আসে না। এখন পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধি আমাদের খোঁজ নিতে আসেননি।’ হাতিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘হাতিয়া উপজেলায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তার প্রস্তুতি রয়েছে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল ইকবাল বলেন, ‘হাতিয়া নদীবেষ্টিত একটি উপজেলা। কয়েকটি এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকার পানি নামতে শুরু করেছে। ২৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।’ বৃষ্টি কমলেও এখনো অনেক এলাকায় পানি নামেনি। দ্রুত পানি নিষ্কাশন, পর্যাপ্ত ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যচাষীদের পুনর্বাসনে জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

বিএনপি সরকার মানুষের হাতে বিদ্যুতের বদলে হারিকেন ও মোমবাতি তুলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল ৪টায় নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীতে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোট বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মস্থান বৃদ্ধি ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে নোয়াখালী জেলা এনসিপি এ কর্মসূচির আয়োজন করে। হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো ২০২৪ সালেও ভোট চুরি হয়েছে। তবে, এবার ভোটের ফল প্রকাশের পর তা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এনসিপির এই নেতা বলেন, ২০১৪-১৮ সালের নির্বাচন ছিল মিডনাইট ইলেকশন। তখন ভোটের ফল প্রকাশের আগেই ভোট চুরি করা হয়েছিল। কিন্তু এবার আমরা নতুন ধরনের মেকানিজম দেখলাম। এবারও ভোট চুরি হয়েছে, তবে ফল প্রকাশের পরে। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ছিল, কিন্তু বিএনপি সেই ভোট চুরি করে ফেলেছে। জুলাইয়ের আগেও ভোট চুরি ছিল, সেটা ভোটের ফল প্রকাশের আগে। জুলাইয়ের পরেও ভোট চুরি থেকে গেছে, সেটা দিনের আলোতে ফল প্রকাশের পরে হয়েছে। বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের বিপক্ষে গিয়ে দেশ পরিচালনা বা সংস্কার করা সম্ভব নয়। আপনারা সংস্কার করতে পারবেন, জনগণের বিপক্ষে গিয়ে তাহলে আপনারা ভুল ভাবছেন। এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও একটি নতুন কর্মসংস্থানও নিশ্চিত করা যায়নি। নতুন কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও দেখা যাচ্ছে না। লোডশেডিং প্রসঙ্গে এই নেতা বলেন, আগে বিদ্যুৎ মানুষের বাড়িতে মাঝে মাঝে যেত, এখন বিদ্যুৎ মাঝে মাঝে আসে। বিএনপি সরকার মানুষের হাতে বিদ্যুতের বদলে হারিকেন ও মোমবাতি তুলে দিয়েছে। বিদ্যুৎমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, দেশে কোনো লোডশেডিং নেই। কিন্তু জনগণের মধ্যে গেলে তিনি বুঝতে পারবেন, অনেক এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। এসময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে টিকটকের কমিউনিটি গাইডলাইনের ফাঁদে পড়েছে বাংলাদেশের অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর। গাইডলাইন লঙ্ঘনের দায়ে ১ কোটি ৩২ লাখ ১৮ হাজার ৪টি ভিডিও মুছে ফেলেছে টিকটক। বুধবার (৮ জুলাই) চীনের ভিডিওভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, নীতিমালা লঙ্ঘনকারী ভিডিওগুলোর মধ্যে ৯৪ দশমিক ৪ শতাংশই প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপসারণ করা হয়েছে। টিকটকের প্রকাশিত সর্বশেষ ‘কমিউনিটি গাইডলাইনস এনফোর্সমেন্ট’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে মোট ১৮ কোটি ৪০ লাখ ১২ হাজার ৫৭৬টি ভিডিও সরানো হয়েছে, যা প্ল্যাটফর্মে আপলোড হওয়া মোট ভিডিওর প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। এর মধ্যে ১৭ কোটি ৮০ লাখ ১৪ হাজার ১৫৪টি ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা হয়। তবে পরবর্তী যাচাই শেষে ৮৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭১০টি ভিডিও আবারও প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিভিন্ন ভিডিও থেকে ২৩ কোটি ৭৫ লাখ ১৭ হাজার ১২৮টি মন্তব্য মুছে ফেলা হয়েছে। একই সময়ে ৮ কোটি ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৫টি ভুয়া অ্যাকাউন্ট এবং ১৩ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের ২ কোটি ৫৭ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭২টি অ্যাকাউন্টও অপসারণ করা হয়েছে। টিকটকের তথ্য অনুযায়ী, অপসারিত ভিডিওগুলোর ১৮ দশমিক ৬ শতাংশে সংবেদনশীল বিষয়বস্তু ছিল, যা প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এছাড়া ১২ দশমিক ৬ শতাংশ ভিডিও নিরাপত্তা ও সামাজিক আচরণবিষয়ক নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।