

নোয়াখালীর সুবর্ণচরের মাঠে মাঠে তরমুজ। ভালো দামের আশায় মৌসুমের শুরুতেই বাজারে তোলা হচ্ছে এবং অর্থকারী এ ফসল চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন স্থানীয় কৃষি কৃষক। আর স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিমধ্যে এর প্রভাবও পড়ছে। কৃষি বিভাগ বলছেন সুবর্ণচরের তরমুজের বাজার প্রায় ৫০০ কোটি টাকার। শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত নোয়াখালীর সুবর্ণচরে অর্থকরী ফসল তরমুজ চাষে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। অনাবাদী চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে এখন সবুজ লতায় ঝুলছে রসালো তরমুজ। রমজান মাসে চলছে তরমুজ তোলার কার্যক্রম। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যায় চলতি মৌসুমে বেড়েছে আবাদ ও উৎপাদনের আশা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর প্রায় ৫০০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সুবর্ণচর উপজেলার মূল ভূখণ্ডে প্রায় ৯০০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। পাশাপাশি চর গাসিয়া, ইসলাম চর, স্বর্ণদ্বীপসহ নতুন জেগে ওঠা বিভিন্ন চরাঞ্চলেও ব্যাপকভাবে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। মাঠজুড়ে দেখা যাচ্ছে ড্রাগন কিং, জেব্রা কিং, গ্লোরি ড্রাগন, ব্ল্যাক জায়ান্ট, বাংলালিংক, ব্ল্যাক বেরি, ভিক্টর সুগার ও ওশান সুগারসহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল দেশি-বিদেশি জাতের তরমুজ। স্থানীয় কৃষকদের মতে, সুবর্ণচর ও আশপাশের চরাঞ্চলের বেলে-দোঁআশ মাটি তরমুজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় প্রতি বছরই আবাদ বাড়ছে। কম সময়ে ভালো লাভ হওয়ায় অনেক কৃষক ধান বা অন্যান্য ফসলের পরিবর্তে তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন। সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, সুবর্ণচর ও পার্শ্ববর্তী নতুন জেগে ওঠা চরে চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে মূল ভূখণ্ডে তরমুজ সংগ্রহ ও বাজারজাত শুরু হয়েছে। তরমুজ বিক্রির মাধ্যমে এলাকার কৃষকদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল হচ্ছে। কৃষকদের সহায়তায় কৃষি বিভাগ প্রদর্শনী বাস্তবায়ন ও বিভিন্ন উপকরণ সহায়তা প্রদান করছে।

কথা বলতে গেলেই জড়িয়ে যায় শব্দ, থেমে থেমে বের হয় বাক্য। তোতলামির কারণে স্বাভাবিকভাবে কথা বলা কঠিন তাকমিল উদ্দিন মিকাইলের জন্য। কিন্তু পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত শুরু করলেই যেন বদলে যায় সবকিছু। তখন আর থাকে না কোনো জড়তা- অনর্গল, স্পষ্ট ও সুরেলা কণ্ঠে তেলাওয়াত করে মুগ্ধ করেন সবাইকে। এমনই ব্যতিক্রমী প্রতিভার অধিকারী নোয়াখালীর শিশু হাফেজ তাকমিল উদ্দিন মিকাইল। তাকমিল নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব মোহাম্মদপুর ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা তসলিম উদ্দিনের একমাত্র ছেলে। তার বাবা চট্টগ্রামে চাকরি করেন। তাকমিল স্থানীয় তামীরুল উম্মাহ হিফজুল কুরআন মাদরাসা থেকে মাত্র সাত মাসে পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি একই এলাকায় তারাবি নামাজে ইমামতি করছেন। জড়িয়ে যাওয়া কণ্ঠে তাকমিল উদ্দিন মিকাইল বলেন, ছোটবেলা থেকেই কথা বলতে গেলে আমার কণ্ঠ আটকে যায়। অনেক সময় ঠিকভাবে কথা বলতে কষ্ট হয়। তবে যখন কোরআন তিলাওয়াত করি, তখন আল্লাহর রহমতে সবকিছু সহজ হয়ে যায়। তখন আর কোনো জড়তা অনুভব করি না। আমি চাই নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত করে মানুষের মাঝে এর সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিতে। আমি বড় আলেম হতে চাই। তাকমিলের সহপাঠী ইয়াসিন আরাফাত বলেন, তাকমিল আমাদের খুব প্রিয় বন্ধু। সাধারণ কথাবার্তায় তার একটু জড়তা আছে, কিন্তু তিলাওয়াত শুরু করলে আমরা সবাই অবাক হয়ে শুনি। তার কণ্ঠে কোরআন খুব সুন্দর শোনায়। আমরা তার জন্য গর্বিত। তাকমিলের হিফজ শিক্ষক এমদাদ উল্লাহ মহাজির বলেন, তাকমিল অত্যন্ত মেধাবী, বিনয়ী ও পরিশ্রমী একজন ছাত্র। অল্প সময়ের মধ্যেই সে নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করেছে। তার তিলাওয়াতে মাধুর্য আছে এবং সে খুব মনোযোগ দিয়ে অনুশীলন করে। আমরা আশা করি ভবিষ্যতে সে আরও বড় আলেম ও ক্বারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। তামীরুল উম্মাহ হিফজুল কুরআন মাদরাসার পরিচালক হাফেজ মো. নাছরুল্লাহ বলেন, তাকমিলের মধ্যে আল্লাহ তাআলা বিশেষ এক প্রতিভা দিয়েছেন। কথা বলার সময় তার জড়তা থাকলেও কোরআন তিলাওয়াতের সময় সে অত্যন্ত সাবলীল ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। তার এই অদম্য চেষ্টা ও আগ্রহ অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আকিব ওসমান বলেন, জড়তা থাকা সত্ত্বেও তাকমিল উদ্দিন মিকাইলের অনর্গল কোরআন পড়তে পারা একটা অলৌকিকতা। এছাড়া সে সাত মাসে হাফেজ হয়েছে। এই অর্জন সত্যিই প্রশংসনীয়। তার মতো প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরা আমাদের সমাজের গর্ব। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।

সুবর্ণচর প্রতিনিধিঃ নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলাতে চলছে সরকারি খাসজমি দখলের মহোৎসব। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কিছু ব্যক্তি প্রশাসনের নিরব সমর্থন এবং নামমাত্র “ম্যানেজমেন্ট”-এর আশীর্বাদে খাসজমি দখল করে স্থায়ী ইমারত নির্মাণ করছেন। সবকিছু হচ্ছে উপজেলা প্রশাসনের চোখের সামনেই। সরেজমিনে দেখা যায়, খোদ উপজেলা প্রশাসন ও জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন আঞ্চলিক হাইওয়ে সড়কটির পাশে ২নং চরবাটা ইউনিয়নের ৩০৩ নং চরমজিদ মৌজার খাস খতিয়ানের আন্দরে ২১৪৬ দাগে সড়কের অংশে ০.৭২ একর ভূমিতে ভূঞারহাট এলাকায় সরকারি খাস জমি দখলের মহোৎসব চলছে। উক্ত দাগে যেটুকু বাকি আছে সেটাও দখল হয়ে যাওয়ার উপক্রম। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে জনবসতি সংলগ্ন খাসজমি গুলোতে এখন একের পর এক দখল অভিযানে মেতে উঠেছে ভূমিদস্যুরা। উল্লেখ্য পূর্বে উক্ত ভূমিতে অবৈধ খাস জমি দখলের কারণে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয় এবং জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিট্রেট দেবাশীষ দাস কর্তৃক খাস জমি হইতে অবৈধ স্থাপনায় গড়ে উঠা ২০টি দোকানঘর গুড়িয়ে দেন। পূর্বের উচ্ছেদ অভিযানের একটি কপি এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। অনুসন্ধানে জানাগেছে, প্রভাবশালীদের একটি সিন্ডিকেট কেউ আবার মিথ্যা তথ্যে দিয়ে নিজেদের ভূমিহীন দাবি করে, কেউ আবার নিজেদের নিকট আত্নীয়স্বজন, রাজনৈতিক দলের কর্মী- সমর্থকদের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভূমিহীন সনদ নেন। এরপর নামে-বেনামে একসনা বনধোবন্ত নথি সৃজন করে খাসজমি দখল করে স্থায়ী ঘর তুলে মাসে লাখ লাখ টাকা ভাড়া আদায় করছেন। এসব প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মূলত নামধারী ভূমিহীন ও জমি-ব্যবসায়ী। সমাজে এদের মূল্যায়ন তোলা তোলা। যদিও ভূমি নীতিমালা অনুযারী প্রকৃত ব্যবসায়ী ছাড়া কোথাও কোন (চান্দিনা) দোকান ভিটি বনধোবন্ত দেওয়ার বিধান নেই। এছাড়াও দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে, কোন স্থায়ী সম্পদ নেই এমন শ্রেণীর ব্যক্তিরা খাস জমি ভূমিহীন হিসেবে বনধোবস্ত দেওয়ার বিধান রয়েছে ভূমি আইনে। অথচ প্রকৃত ভূমিহীনরা পাচ্ছে না ভূমি বনধোবস্ত। প্রশাসনের এক শ্রেণীর লোভী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে প্রভাবশালীদের কব্জায় সরকারি খাস জমির আজ অস্তিত্ব সংকটে। সরেজমিনে দেখাযায়, ভূমিদস্যুরা এসব ক্যাটাগরির কোনটিতে নেই। পারিবারিক ও স্থানীয় মদদে প্রশাসনের উদাসীনতায় চলছে জমি দখল ও স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ। আরও জানা গেছে, কিছু কিছু দখলকারী উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে ওই সুযোগেই নির্বিঘ্নে দখল কার্যক্রম চালাচ্ছে। অনুসন্ধানে আরো জানাগেছে, স্বৈরশাসন আমলে দখল করা ফ্যাসিস্ট সরকারের লোকজন দোকান ভিটি, খাস জমি দখল করে বর্তমান সরকার আমলের অনেকের নিকট লাখ লাখ টাকা বিক্রি করে দেশের বাহিরে অর্থ পাচার করছেন। কেউ কেউ অন্যত্র সম্পদ গড়ে তুলছেন, নানা ব্যবসার অংশীদার হচ্ছেন। প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতায় অত্র উপজেলায় ভূমি খাতটি থেকে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় বার বার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তথ্যসহ সকল কিছু জানলেও নিরব থাকে প্রশাসন! সরকারি ভূমি রক্ষায় আইন কাগজে কলমে বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি ভূমিকা নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোর। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে ইউএনও অবগত থাকলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। দখলকারীরা প্রকাশ্যেই বলে বেড়ায়-‘সব ম্যানেজ করা আছে।’ সরকারি খাসজমি ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার দায়িত্ব প্রশাসনের হলেও বছরের পর বছর ধরে এসব জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে- আর এসব বিষয়ে প্রশাসনের নীরব সমর্থন রয়েছে বলে খবর নিয়ে জানা গেছে। খাসজমি দখল ঠেকাতে সরকারের কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও সুবর্ণচরে যেন তার কোনো প্রয়োগ নেই। দিন দিন বাড়ছে দখলের পরিধি, আর কমছে সরকারি সম্পত্তি। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এভাবে যদি প্রশাসন নিরব থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে সরকারি খাসজমি নামমাত্র কাগজে থাকলেও বাস্তবে পুরোপুরি দখল হয়ে যাবে কিছু প্রভাবশালীর হাতে। অপরদিকে এমনও অনেক ভিপি সম্পত্তি লিজ দেওয়া আছে যেগুলোর প্রকৃত লিজাররা জমি বুঝে পায়নি কিন্তু প্রতি বছর খাজনা পরিশোধ করেন। অথচ সেই জায়গা দখল করে বাড়ি-ঘর করে আছে অন্য কেউ সেদিকেও নজর নেই প্রশাসনের। প্রকৃত লিজাররা ইউএনও এসিল্যান্ড এর কাছে বহুবার অভিযোগ করেও কোন সমাধান পাননি। বরং তারা অন্য আইনের গল্প শুনিয়ে ছেড়ে দেয় ভিকটিমদের। দেখলে মনে হয় এখন সব মগের মুল্লুক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজারের প্রকৃত সচেতন ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ, একাধিক পথচারীদের দাবি, খাসজমি দখল বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি ইতোমধ্যেই যারা সরকারি খাসজমি দখল করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকিব ওসমান বলেন, আচ্ছা আমি বিষয়টি জানি না। জেনে বিস্তারিত আইনগত পদক্ষেপ নিবো। রিপোর্টটি লেখার আগ পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি প্রশাসনের তরফ হতে। এতে কানাঘুষা করছে সচেতন নাগরিক সমাজের মানুষজন তাহলে মনে হচ্ছে 'সর্ষের মধ্যে কি ভূত?? এ ব্যাপারে সুবর্ণচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছেনমং রাখাইন জানান, আসলে অর্পিত বা ভিপি সম্পত্তি বাদে অন্যান্য খাস জায়গাগুলো তেমন ভাবে তদারকি করা হয় না। তবে আমরা চেষ্টা করছি সরকারি সম্পদ রক্ষায়। যখন যেটা প্রয়োজন হয় তখন সে জায়গা আমরা নিয়ে নেই। প্রয়োজন হলে উচ্ছেদ অভিযানও পরিচালনা করা হয়। উচ্ছেদকৃত জমিতে স্থায়ী ইমারত নির্মাণে না কি আপনি অনুমতি দিয়েছেন গুঞ্জন উঠেছে ? তাই কোন পদক্ষেপ না নিয়ে নিরব আছেন। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি? আপনি কি সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দোকান ভিটি করার অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন?? রাখলে সেই আইন কোনটি, জানান। বিগত সময়ে আমরা অনেক জায়গা উদ্ধার করে সরকারি ভাবে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এখন যারা খাস জায়গা দখল করে আছে তাদের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে আমরা সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবো। তারপরও এ বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নেব।

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে চরম দারিদ্র্য ও মানবেতর জীবনযাপনের করা বিধবা আয়েশা বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। তিন সন্তানকে নিয়ে পান্তা ভাত খেয়েই সেহরি-ইফতার করার সংবাদ প্রকাশের পর মানবিক উদ্যোগ হিসেবে তার জন্য ঘর নির্মাণের আশ্বাস দেন তিনি। একইসঙ্গে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে নগদ অর্থ ও এক মাসের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আয়েশা বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন নাছির উদ্দীন নাছির। এ সময় তিনি তার পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত একটি নিরাপদ ঘর নির্মাণে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে তার পক্ষ থেকে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আয়েশা বেগমের বাড়িতে গিয়ে নগদ অর্থ ও এক মাসের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন। জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারানোর পর আয়েশা বেগম তিন সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। পরিবারের উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় অনেক সময় না খেয়েই দিন পার করতে হয়েছে তাদের। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা পোস্ট ডটকম 'পচা ভাত খেয়েই সেহরি-ইফতার, তিন সন্তান নিয়ে দিশেহারা বিধবা আয়েশা' সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি বিভিন্ন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। খবরটি নজরে আসার পর মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত উদ্যোগ নেন ছাত্রদল নেতা নাছির উদ্দীন নাছির। তিনি বলেন, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক দায়িত্ব। আয়েশা বেগমের পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে আমি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করবো এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, যেহেতু আয়েশা বেগম মানবেতর জীবনযাপন করছেন, তাই দ্রুত খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে ঈদের আগেই কীভাবে ঘর করা যায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বিধবা আয়েশা বেগম একা নন তার পাশে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল আছে। এদিন উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহিবুল্লাহ বাবুল, ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক ডা. বোরহান, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জাফর উল্লাহ, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফাহিমসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম আজাদ বলেন, আয়েশা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছিলেন। ছাত্রদল নেতা নাছির উদ্দীন নাছিরের পক্ষ থেকে ঘর নির্মাণের আশ্বাস এবং খাদ্য সহায়তা পাওয়ায় পরিবারটির মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আমরা আশা প্রকাশ করি, দ্রুত ঘর নির্মাণকাজ বাস্তবায়িত হলে পরিবারটি নতুন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ী মো. সিরাজ উদ্দিন বলেন, সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে এমন অসহায় পরিবারগুলো নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারে। আয়েশা বেগমের প্রতি এই সহায়তা অন্যদেরও মানবিক কাজে উদ্বুদ্ধ করবে। নাছির উদ্দীন নাছির যে মানবিক সহায়তা হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বিধবা আয়েশা বেগম বলেন, আমার কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য নাছির উদ্দীন নাছির ভাইয়ের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন। দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে ছিলাম। আজ সাহায্য পেয়ে মনে হচ্ছে এখনও আমাদের কথা ভাবার মানুষ আছে। সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই। এর আগে বিধবা আয়েশা বেগমের জন্য খাদ্যসামগ্রী পাঠিয়েছেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, পারি ফাউন্ডেশন, সুবর্নচর উপজেলা যুবদলের সভাপতি বেলাল হোসেন সুমন প্রমুখ।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পচা ভাত খেয়েই সেহরি-ইফতার করা তিন সন্তানসহ দিশেহারা জীবনযাপন করা বিধবা আয়েশা বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছেন নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার হাতে এক মাসের খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। আয়েশা বেগম সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী গ্রামের মৃত আমির হোসেন লেদুর স্ত্রী। জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারানোর পর থেকেই তিন সন্তানকে নিয়ে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে তাদের জীবনে নেমে আসে দুর্ভোগ। এতিম হয়ে পড়ে তিন সন্তান— মো. সজিব, মো. সৌরভ ও মো. সবুজ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভাব-অনটনের কারণে অনেক সময় না খেয়ে কিংবা পঁচা ভাত খেয়েই সেহরি ও ইফতার করতে হচ্ছে পরিবারটিকে। বিদ্যুৎবিহীন জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন কাটছে তাদের। নিহত আমির হোসেন পেশায় পিকআপ চালক ছিলেন। অন্যের গাড়ি ভাড়া নিয়ে সবজি পরিবহন করে সংসার চালাতেন। পরে জীবিকার তাগিদে গাছ টানার কাজে যুক্ত হন। ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর গাছ উত্তোলনের সময় একটি বড় গাছ ভেঙে তার ওপর পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। স্বামীর মৃত্যুর পর আয়েশা বেগমের পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়। উপার্জনের কোনো পথ না থাকায় অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটছে তাদের। আয়েশা বেগম বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে আছি। অনেক সময় ভালো খাবার জোটে না। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে অসহায় লাগে। দুইটা ছেলে অসুস্থ। তাদের চিকিৎসা করাতে পারছি না। ইউএনও স্যার এক মাসের খাদ্য সামগ্রী দিয়েছেন। স্যারের জন্য দোয়া করি। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সিরাজ উদ্দিন বলেন, আমির হোসেন ছিলেন পরিশ্রমী ও হাসিখুশি মানুষ। মৃত্যুর সময় তার দাফনের খরচও এলাকাবাসী মিলে বহন করতে হয়েছিল। এখন তার পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই দরকার। এ বিষয়ে ইউএনও আকিব ওসমান বলেন, পরিবারটির দুরবস্থার কথা জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে এক মাসের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চাল, ডাল, ছোলা, তেলসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী ছিল। এছাড়াও ২টা কম্বল দিয়েছি। ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এসএম ফরহাদ বলেছেন, ৫ আগস্টের পর দেড় বছরে যারা চাঁদাবাজির জন্য ২৭৩ জন মানুষকে হত্যা করেছে, তাদেরকে আর ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হবে না। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে নোয়াখালী-৪ আসনের সুবর্ণচরের চরজব্বর ডিগ্রি কলেজ মাঠে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। এস এম ফরহাদ বলেন, ‘দেশের মোট মারামারির ৯১ শতাংশই করেছে একটি নির্দিষ্ট দল। শুধুমাত্র চাঁদাবাজি, লুটপাট আর ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বে গত দেড় বছরে (৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত) তারা ২৭৩ জন মানুষকে হত্যা করেছে। এই দলকে আমরা আর ক্ষমতায় আসতে দিতে চাই না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যা-ই করি না কেন, বারবার নিজেদের করণীয় ভুলে যাই। ৯০-পরবর্তী সময়ে আমরা ভুল পথে হেঁটেছি, ৭৫-এর পরেও ভুল পথে হেঁটেছি; এখন চব্বিশের পরেও যদি আমরা ভুল পথে হাঁটি, তবে বাংলাদেশ আবারও দীর্ঘসময়ের জন্য দুর্নীতিবাজদের কবলে পড়ে যাবে।’ ডাকসুর জিএস বলেন, ‘যে বিজয় ডাকসুতে শুরু হয়ে জকসুতে এসে থেমেছে, তারা ভয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছে। সেই ভয়ের চূড়ান্ত ফলাফল তারা ১২ তারিখে দেখতে পাবে। এই ১২ তারিখ হবে দাঁড়িপাল্লার বিজয়।’ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ফরহাদ বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব দুটি—প্রথমত, আপনি নিজে ভোট দিতে আসবেন এবং ভোট দেবেন। দ্বিতীয়ত, এই বার্তাটি যদি আমরা প্রত্যেক নাগরিকের কাছে পৌঁছে দিতে পারি, তবেই আমরা সফল হবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘শোনা যাচ্ছে বিএনপি নাকি ভোটকেন্দ্র দখল করতে চায়। কিন্তু চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের জাগ্রত জনতা কাউকে আর কেন্দ্র দখল করতে দেবে না। যে জুলাই বিপ্লবে যুবকরা বুকের রক্ত দিয়ে বুলেট নিয়েছে, সেই তরুণরা বেঁচে থাকতে কোনো অপশক্তিকে কেন্দ্র দখলের সুযোগ দেবে না।’ সুবর্ণচর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী-৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির মো. ইসহাক খন্দকার, চাকসুর সাবেক জিএস সাইদ বিন হাবিবসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা।

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুটি নির্বাচনি অফিসকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের আল-আমীন বাজারে এই অভিযান পরিচালিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সুবর্ণচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছেনমং রাখাইন। অভিযান সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনি অফিসে আলোকসজ্জা করা এবং বিধি বহির্ভূতভাবে রঙিন পোস্টার লাগানোর দায়ে দল দুটিকে আর্থিক দণ্ড দেওয়া হয়। এতে বিএনপি অফিসকে ৫,০০০ টাকা এবং জামায়াত ইসলামী অফিসকে ৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। নির্বাচনি পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে আমাদের এ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছেনমং রাখাইন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ যৌথবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেন। প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনি আচরণবিধি বজায় রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত মাঠে কাজ করে যাচ্ছে।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেওয়ায় অপরাধে ২০১৮ সালে নির্বাচনের রাতে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার সেই নারী। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের খুব ইচ্ছা ছিল পারিনি। এখন আমি তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে মনকে হালকা করতে চাই। রোববার (১৮ জানুয়ারি) সুবর্ণচরের চরজুবলি ইউনিয়নের মধ্য বাগ্যা গ্রামের বাড়িতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জাগো নিউজের কাছে এ আকুতি জানান। তিনি বলেন, ‘গত ৭ বছর সেই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছি। এমন নারকীয় রাত যেন কারো জীবনে না আসে। আজও সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা। অনেক সময় বিছানা থেকে উঠতে পারি না। টাকার অভাবে চিকিৎসাও করাতে পারিনি। সারারাত ব্যথায় ছটফট করি। সেই রাতের পর জীবন আর আগের মতো নেই।’ তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা কীভাবে করাবো সংসারইতো ঠিকমতো চলে না। স্বামী দীর্ঘদিন অসুস্থ, এক ছেলে প্রতিবন্ধী। বড় ছেলে আব্দুল কুদ্দুস অটোরিকশা চালিয়ে যা পায় তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলে। তাই নুন আনতে পানতা পুরায়।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তৎকালীন প্রশাসন আমাকে ঘর ও জমি দেওয়ার আশ্বাস দিলেও দল বিবেচনায় আমাকে কিছু দেওয়া হয়নি। তবে ঘটনার পর থেকে আমার দল বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান ও ‘নিজেরা করি’-এর সমন্বয়কারী খুশি কবিরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা যেভাবে খোঁজখবর নিয়েছেন তাতে আমি খুশি।’ তিনি বলেন, ‘এখন মামলায় ফাঁসির রায় হওয়া আসামিদের দ্রুত ফাঁসি চাই। সেইসঙ্গে ত্রয়োদশ ভোটের আগে সম্ভব হলে আমি আমার দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাই। আমার মনের কথাগুলো তার কাছে বলতে চাই। অন্তত মরার আগে এটুকু সান্ত্বনা নিয়ে মরলেও শান্তি পাবো। এ জন্য আমি আমার দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’ ওই নারীর স্বামী সিরাজ উদ্দিন বলেন, ‘আর্থিক সংকট ছাড়াও সামাজিক অপবাদ ভোগ করছি আমরা। বাজার-দোকানে গেলে নানা কটু কথা শুনতে হয়। অপরাধীদের আত্মীয়-স্বজনরা আমার বাড়ির নাম রেখেছে ‘ধর্ষণের বাড়ি’। আমি সামাজিক মর্যাদাসহ স্বাভাবিক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা চাই।’ বড় ছেলে আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘রাস্তাঘাটে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য শুনে আসছি। অনেক জায়গায় আমাদের বসতেও দেওয়া হয় না। সমাজ আমাদের সম্মান করে না, যেন আমরাই অপরাধী। আসামিদের পরিবারের পক্ষ থেকেও নানা হুমকি দেওয়া হয়। সামনে যে সরকার আসুম আমরা আমাদের স্বাভাবিক জীবনের নিরাপত্তা চাই।’ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর সকালে ভোটকেন্দ্রে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের পছন্দের বাইরে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেন ওই নারী। তাকে সেই ভোট প্রদানের জেরে ওইরাতে বাড়িতে প্রবেশ করে আওয়ামী দুর্বৃত্তরা চার সন্তানের সামনে ওই নারীকে বেদম মারধর করেন ও দলবদ্ধ ধর্ষণ করে। পরে দেশজুড়ে এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ উঠে। এ নিয়ে মামলা দায়ের হলে ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক (জেলা জজ) ফাতেমা ফেরদৌস ১০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ৬ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। তবে রায় এখনো কার্যকর হয়নি। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন, চরব্যাগ্যা গ্রামের মৃত খুরশিদ আলমের ছেলে মো. রুহুল আমিন, মৃত আবদুল হাসেমের ছেলে মো. হাসান আলী বুলু, মৃত ইসমাইলের ছেলে মো. সোহেল, মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে স্বপন, আবুল কাশেমের ছেলে ইব্রাহীম খলিল, মৃত ছিডু মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন আবু, ফকির আহাম্মদের ছেলে মো. সালাউদ্দিন, মো. মোতাহের হোসেনের ছেলে মো. জসীম উদ্দিন, মো. রফিকের ছেলে মো. মুরাদ ও মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে মো. জামাল হেঞ্জু। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো. হানিফ, আবদুল হামিদের ছেলে মো. চৌধুরী, মৃত আহম্মদ উল্যার ছেলে মো. বাদশা আলম, তোফায়েল আহম্মদের ছেলে মোশারফ, মৃত আরব আলীর ছেলে মো. মিন্টু ওরফে হেলাল ও আবুল কালামের ছেলে মো. সোহেল।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নে একটি মাদরাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। একপর্যায়ে বিক্ষুদ্ধ জনগণ ওই মাদরাসায় অগ্নিসংযোগ করেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে উপজেলার উত্তর চর হাসান গ্রামের সৈয়দ মুন্সি বাড়ি মাদরাসায় এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে চরজব্বর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. লুৎফর রহমান ও সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকিব ওসমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক মাহমুদুল হাসান (৩৫) পিরোজপুর জেলার বাসিন্দা। তিনি সৈয়দ মুন্সি বাড়ি মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। ভুক্তভোগী ছাত্রী ওই মাদরাসার সাবেক শিক্ষার্থী। বর্তমানে সে নোয়াখালী সদর উপজেলার নুরু পাটোয়ারীহাট মাদরাসায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। অভিযোগ অনুযায়ী, মাদরাসায় পড়াশোনার সময় প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে ছাত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৭ জানুয়ারি অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে নিয়ে পালিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। চরজব্বর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবু কাউছার বলেন, ঘটনার পর ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্ত শিক্ষকের মাদরাসায় তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মাদরাসাটি বন্ধ ছিল। এরই মধ্যে মঙ্গলবার গভীর রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা মাদরাসায় অগ্নিসংযোগ করে। এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকিব ওসমান বলেন, মাদরাসার শিক্ষক ছাত্রী নিয়ে পালানো ও প্রতিষ্ঠানে তালা লাগানোর বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে কেউ অবগত করেনি। তবে খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এটি একটি অপরাধমূলক ঘটনা। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। চরজব্বর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। মাদরাসায় কোনো শিক্ষার্থী না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ছাত্রীকে নিয়ে পালানোর ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সুধারাম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে ভুক্তভোগী ছাত্রী তার পরিবারের হেফাজতে রয়েছে।

নোয়াখালী সুবর্ণচর উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড ধানেরশীষ গ্রামে জোরপূর্বক জমি দখল, মাছের খামার ও মালামাল লুটপাটের চেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবার। রবিবার (৪ জানুয়ারি) বিকাল ৪ টার দিকে সুবর্ণচর উপজেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য জোসনা বেগম। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চর ওয়াপদা ইউনিয়নের ধানেরশীষ গ্রামের আব্দুল খালেক ও ফিরোজা বেগমের ওয়ারিশ হয়ে তিন একর জমি তারা শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে রেখে সেখানে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাদের ভোগদখলে বাধা সৃষ্টি করছে। এমনকি আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি সন্ত্রাসী কায়দায় বাড়িঘর দখল করার চেষ্টার অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জোসনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, সোনাইমুড়ী উপজেলার ওয়াছেকপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রব পাটোয়ারীর পুত্র ওমর ফারুক নামের এক ব্যাক্তি তার দলবল নিয়ে প্রকাশ্যে জমি দখলের চেষ্টা করে এবং আমাকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে, যা আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি চরম অবমাননার শামিল। এতে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং তাদের জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের জানমাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

নোয়াখালী সুবর্ণচরে জায়গায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ঝামেলা মিটিয়ে দেবার জন্য দাবীকৃত ৩ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় বৃদ্ধাকে পিটিয়ে ২ হাত এবং পা ভেঙ্গে দেয় প্রতিপক্ষের লোকজন। শুধু তাই নয় ঐ বৃদ্ধকে পিটিয়ে অজ্ঞান করে জিন্দা কবর দেয়ার চেষ্টাও করা হয়, পরে এলাকাবাসীর রোষানলে পড়ে ঐ বৃদ্ধাকে তার বাড়ির সামনে অজ্ঞান অবস্থায় পেলে রেখে চলে যায় তারা এমনটাই অভিযোগ পাওয়া গেছে।ঘটনাটি ঘটে ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় সুবর্ণচর উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড পূব চরজব্বর গ্রামের সেকান্তর মিয়ার বাড়ির সামনে। চর ওয়াপদা ইউনিয়নের পূর্ব চরজব্বর গ্রামের মৃত ওসমান গনীর পুত্র বৃদ্ধ আল আমি (৬৫) ওরপে আল আমিন হুজুর বলেন, বিগত কয়েকমাস ধরে প্রতিবেশী একই গ্রামের মৃত মনসুর আহমেদের পুত্র বেচু মিয়া (২৩) সাথে জায়গায় জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো গত মাসে বেচু মিয়া আমার জায়গায় ওপর রোপন করা গাছপালা কেটে পেলে এতে আমি তাদের বিরুদ্ধে চরজব্বর থানায় লিখিত অভিযোগ করি। পরে বেচু মিয়া তার ভাড়া করা স্থানীয় আবু কালামের পুত্র কৃষকদল নেতা মুরাদ (২৫), ডাক্তার নুরুল আমিনের পুত্র নজরুল ইসলাম রাসেল (৩০), আমার কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে ঐ টাকা দিয়ে দিলে তারা আর কোন ঝামেলা করবেনা এবং ধন্ধের বিষয়টি মিটমাট করে দিবে মর্মে বললে আমি তাদেরকে ৫ হাজার টাকা প্রদান করি পরে তারা ৫ হাজার টাকা নিয়ে চলে যায়। এর পর বিভিন্ন সময় তারা আমার কাছে বাকি টাকা চাইতে থাকে এবং টাকা না দিলে বাড়ি ঘর, জায়গা জমি দখল করে এলাকা ছাড়া করবে মর্মে হুমকি ধমকি দিতে থাকে। ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৮ টায় আমি আমার ক্রয়কৃত উক্ত জায়গায় গেলে কিছুক্ষণ পর বেচু মিয়ার নেতৃত্বে নজরুল ইসলাম রাসেল, মুরাদ, একই এলাকার রাজু (৩০), ডাক্তার নুরুল আমিন (৬০), আবু কালাম (৫০) এসে উপস্থিত হয় পরে রাসেল মুরাদ আমার কাছে টাকা দাবী করলে আমি দিতে অস্বীকার করলে তাদের সাথে নিয়ে আসা লোহার রড়, কাঠ, সহ দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র দিয়ে আমাকে পিটিয়ে আমার ২ হাত এক পা ভে দেয়। তাদের মারধরে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়লে তারা আমাকে জীবন্ত কবর দেয়ার চেষ্টা করে এ ঘটনায় এলাকার লোকজন বাঁধা দিলে তারা আমাকে অন্যত্র নিয়ে যাবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে আমার বাড়ীর সামনে আমাকে মুমুর্ষ অবস্থায় রেখে চলে যায়। পরে আমার পরিবার আমাকে এম্বুলেন্স যোগে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি পরে এক্সরে করে দেখা যায় আমার দু হাত ভেঙ্গা এবং এক পায়ে মারাত্মক ইনজুরি হয়েছে। আমি উক্ত ঘটনার বিচার চাই।অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম রাসেল ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, আমরা কেউ ঘটনাস্থলে ছিলাম না, তার হাত পা সে নিজে ভেঙ্গেছে। অন্যদের মুঠো ফোনে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্বব হয়নি।চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জকে একাধিকবার কল দিয়েও না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্বব হয়নি।এমন নেক্কার জনক ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোস্যাল মিডিয়ায় চলছে প্রতিবাদের ঝড়।

ধানক্ষেতের পাশে বস্তার ভেতর মিলল একনলা বন্দুক নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন এলাকা থেকে একটি সচল একনলা বন্দুক ও একটি শটগান কার্তুজ উদ্ধার করেছে র্যাব। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। র্যাব জানায়, মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের চর আলাউদ্দিন সাকিনস্থ ধানক্ষেতসংলগ্ন একটি ডোবার পশ্চিম পাশের ঝোপে হলুদ রঙের একটি বস্তার ভেতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি সচল একনলা বন্দুক ও একটি শটগান কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। টহল ডিউটির সময় গোপন সূত্রে অস্ত্র পরিত্যক্ত থাকার তথ্য পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালানো হয়। স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও কার্তুজ জব্দ করে জব্দতালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। পরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এগুলো চরজব্বর থানায় হস্তান্তর করা হয়। র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধ দমনে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যায় জড়িত প্রধান সন্দেভাজন মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখকে ভারতে পালাতে সহযোগিতার অভিযোগে দুই ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে মেঘালয় পুলিশ। তারা হলেন, পুর্তি ও সামী। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, হাদির হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত। ঘটনার পর ফয়সাল ও আলমগীর শেখ ঢাকা থেকে সিএনজিতে করে আমিনবাজারে যান। সেখান থেকে গাড়িতে করে কালামপুরে যান। কালামপুর থেকে আরেকটি গাড়িতে করে ময়মনসিংহ সীমান্তে যান। সেখানে ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রহণ করে ফিলিপ স্নাল ও সঞ্জয়। তারা সীমান্তে অবৈধভাবে মানুষ পারাপার করেন। পরে ফিলিপ দুজনকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে নিয়ে যান। নজরুল ইসলাম বলেন, ফিলিপ ফয়সাল ও আলমগীরকে ভারতের তুরা নামক স্থানে নিয়ে যান। সেখানে ভারতীয় নাগরিক পুর্তির কাছে দুজনকে পৌঁছে দেন। পরে সামী নামের এক ব্যক্তির গাড়িতে করে সেখান থেকে পালিয়ে যান তারা। পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, হাদি হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৬ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া চারজন সাক্ষীও আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, হাদি হত্যা মামলাটি তদন্ত একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এ মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের অনেককেই শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সবার নাম বলা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ততথ্যে এটাকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডই মনে হচ্ছে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জোট বা আসন সমঝোতা করার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী রোববার কিংবা সোমবারের মধ্যে জোট ঘোষণা করা হবে বলে এনসিপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে দলটির একাধিক নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এনসিপির একাধিক সূত্র জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামাতের সঙ্গে জোটবদ্ধ ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে এনসিপি। এতে দলের এক তৃতীয়াংশের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও সমঝোতার বিষটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে সমঝোতার বিষয়ে দেড় শতাধিক নেতা সম্মতি দিয়েছে বলেও সূত্র জানান। জামাতের সঙ্গে জোট বা আসন সমঝোতার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আশা করি কাল-পরশুর মধ্যে হয়ে যাবে। ৩৫ থেকে ৪০টি আসন সমঝোতা হতে পারে। তিনি আরো জানান, আপত্তি তো জানাতেই পারে। সব সিদ্ধান্ত সবাই মানবে নাকি? এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক জোট বা আসন সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন সদস্য। এদিকে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন দল সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন।

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার কাছে বিমান দুর্ঘটনায় লিবিয়ার সেনাপ্রধান জেনারেল মোহাম্মদ আলী আহমেদ আল-হাদাদসহ আরও চারজন উচ্চপদস্থ লিবিয়ান কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে আঙ্কারা থেকে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। খবর আল জাজিরা। তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইয়ারলিকায়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ জানান, ‘ফ্যালকন ৫০’ মডেলের বিজনেস জেটটি মঙ্গলবার রাত ৮টা ১০ মিনিটে আঙ্কারার এসেনবোগা বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। রাত ৮টা ৫২ মিনিটে কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে বিমানটির রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তিনি জানান, নিখোঁজ হওয়ার আগে বিমানটি হাইমানা জেলায় জরুরি অবতরণের অনুরোধ জানিয়েছিল। পরবর্তীতে তুর্কি জেন্ডারমারি (আধা-সামরিক বাহিনী) আঙ্কারা থেকে ৭৪ কিলোমিটার দূরে হাইমানা জেলার কেসিককাভাক গ্রামের কাছে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পায়। এদিকে এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দাবেইবাহ। বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই ঘটনা জাতির জন্য বড় ট্র্যাজেডিটি। সামরিক বাহিনীর ও দেশের মানুষের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা এমন কিছু মানুষকে হারালাম যারা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দেশের সেবা করেছেন এবং তারা শৃঙ্খলা ও জাতীয় অঙ্গীকারের প্রতীক ছিলেন। লিবিয়াতে নিযুক্ত আল-জাজিরার সাংবাদিক মালিক ট্রাইনা জানান, আল-হাদাদ ছিলেন একজন পেশাদার সামরিক ব্যক্তিত্ব যাকে সবাই শ্রদ্ধা করততেন। তিনি কোনো মিলিশিয়া গোষ্ঠীর পক্ষ না নিয়ে আইনের প্রতি অবিচল থাকতেন। লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তার মৃত্যু লিবিয়ার সামরিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এক বিশাল ধাক্কা। উল্লেখ্য, তুরস্কের সঙ্গে লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত ত্রিপোলি সরকারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। চলতি সপ্তাহে তুর্কি সেনাপ্রধান ও অন্যান্য সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করতে আঙ্কারা সফরে এসেছিলেন আল-হাদাদ।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক হিসেবে প্রথমবারের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি রাজ্যের বিচারপতির দায়িত্ব পেলেন সোমা সাঈদ। এদিকে বিচারপতি হিসেবে শপথ নেয়ার সময় পবিত্র কুরআন ছিল তার অন্তরের ভালবাসা ও এক সাহসী সিদ্ধান্তের অনুপ্রেরণা। পবিত্র কুরআন ও বাংলাদেশি হিসেবে প্রথম একজন বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনী কাঠামোর ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। যে প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট দেশের ৫০টি অঙ্গরাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা লক্ষ লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে বইছে প্রাণবন্ত আলোচনা, মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ-উচ্ছ্বাস। সোমা সাঈদ নিজেও ছিলেন বেশ উচ্ছ্বসিত। গত সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটিস্থ কুইন্স সিভিল কোর্ট হাউজে উচ্চপদস্থ বিচারপতি, কর্মকর্তা, রাষ্ট্রদূত ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে পবিত্র কুরআনে হাত রেখে নিউইয়র্কের স্টেট সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন সোমা সাঈদ। তিনি এখন মার্কিন বিচারাঙ্গনের চেয়ারে বসে বিচারকার্য পরিচালনা করবেন। এ উপলক্ষ্যে ওই কোর্ট হাউজে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নেন উচ্চপদস্থ বিচারক, বিচারপতি, রাষ্ট্রদূত,কমিউনিটি ব্যক্তিবর্গ প্রমুখ। উল্লেখ্য, গত ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য জুড়ে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, এতে বিচারপতি নির্বাচিত হন সোমা। বলাবাহুল্য, মার্কিন বিচারক নির্বাচিত হয়ে থাকেন স্টেট ও স্থানীয় পর্যায়ের বিচারক এবং বিচারপতিরা দলীয় ও সাধারণ নির্বাচনে জনগণের ভোটে। তবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অত্যন্ত মেধাসম্পন্ন নারী ব্যক্তিত্ব ও বাঙালি কমিউনিটির সুপরিচিত মুখ সোমা সাঈদ তার আগে ২০২১ সালে কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট জাজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সুনামের সহিত আইনী মর্যাদা সমুন্নত রেখেছিলেন।

১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবীতে সুবর্ণচরে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা কর্মবিরতি পালন করেছে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মবিরতি চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। নিজ নিজ দপ্তরের সকল কাজ কর্ম ফেলে দাবী আদায়ের লক্ষে এ কর্মবিরতি পালন করছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফার্মেসী, এক্স-রে, প্যাথলজি কর্মকর্তারা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ রোগী। তাই আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। এছাড়া একই দাবীতে এর আগে গত ৩০ নভেম্বর সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করেছিলেন তারা। এদিকে দাবী বাস্তবায়নে বৃহস্পতিবার থেকে লাগাতার কমপ্লিট শাট ডাউন কর্মসূচী পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। কর্মবিরতি কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফার্মাসিস্ট খায়রুল ইসলাম, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট তুষার কুমার পোদ্দার, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রাকিবুল ইসলাম, ফার্মাসিস্ট মো: নাসির উদ্দীন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো: রাসেল উদ্দিন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট শিশির লাল সাহা, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মিশু মজুমদার, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো: নুরুল হুদা পলাশ প্রমুখ। কর্মবিরতি পালনকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) তুষার কুমার পোদ্দার বলেন, ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবীতে আমরা বুধবার অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেছি। দাবী বাস্তবায়ন না হলে বৃহস্পতিবার থেকে লাগাতার কমপ্লিট শাট ডাউন কর্মসূচী পালন করা হবে। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে আমরা এ দাবীতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছি। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে আশ্বাস দিলেও দাবী বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে আমরা চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। আমরা স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন কর আসছি। আমাদের কর্মবিরতিতে রোগীদের ভোগান্তি হচ্ছে। তাই আশা করছি বর্তমান সরকার আমাদের দাবী বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে কর্মক্ষেত্রে ফেরার ও রোগীদের সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করে দিবেন। বক্তা অভিযোগ করেন- করোনা, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে জীবন বাজি রেখে কাজ করলেও ন্যায্য গ্রেড থেকে আমরা বঞ্চিত।

আমাদের অঙ্গীকার, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার এ স্লোগানকে সামনে রেখে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা প্রেসক্লাবের নতুন আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২২ নভেম্বর (শনিবার) বিকেলবেলা চরজব্বর থানা সংলগ্ন প্রেসক্লাব সভা কক্ষে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সাধারণ সভায় ক্লাবের সাপ্তাহিক আজকাল পত্রের স্টাফ রিপোর্টার ডাক্তার হামিদ উল্যাহ এর সভাপতিত্বে এসটি বাংলা টিভি নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি আহসান হাবীব এর সঞ্চালনায় প্রেসক্লাবের মেয়াদ উর্ত্তীণ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। সেই সাথে ৩ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। নতুন কমিটি আগামী ৬ মাসের মধ্যে সাধারন সভা আহবান করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবেন বলে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। উপজেলার সিনিয়র সাংবাদিক ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি মাষ্টার হুমায়ুন কবীর আহবায়ক, সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক দিনকাল পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি আবুল বাসার যুগ্ম আহবায়ক, দৈনিক বাঙলার জাগরণ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আব্দুল আজিজ কে সদস্য সচিব করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়। আহবায়ক কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, চ্যানেল এস এর নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি ইমাম উদ্দিন সুমন, দৈনিক সংবাদ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি দেলোয়ার হোসেন রাজু, আনন্দ টিভি সুবর্ণচর উপজেলা প্রতিনিধি সামছু উদ্দিন, দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি হাফেজ মাওলানা সৈয়দ আহমদ হেলাল, দৈনিক তৃতীয়মাত্রা সাবেক নোয়াখালী প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার নুরে আলম সিদ্দিকি, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি তানভীর ইরাক, দৈনিক লাখো কণ্ঠ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি নেয়ামত উল্যাহ তারিফ,দৈনিক সংগ্রাম প্রতিদিন উপজেলা প্রতিনিধি ফোরকান উদ্দিন সুজন, দৈনিক নবচেনতা পত্রিকার ফটো সাংবাদিক মোঃ খোকন, সি এন টিভির ক্রাইম রিপোর্টার শাহরিয়ার হোসেন সুমন, সুবর্ণ টিভির সম্পাদক ডাঃ আরিফ মাহমুদ, দৈনিক অগ্রযাত্রার প্রতিনিধি মোঃ মামুন হোসেন মাসুদ, দৈনিক বাংলার নিউ'র প্রতিনিধি মোঃ তাওহীদুল ইসলাম, ঢাকা মেইল কাতার প্রতিনিধি আবুল কালাম ফয়সাল, হোমনা টিভি প্রতিনিধি রিয়াজ উদ্দিন রুবেল, দৈনিক সুবর্ণ প্রভাত প্রত্রিকার প্রতিনিধি মহি উদ্দিন রাসেল,আজকের যোগাযোগ প্রতিনিধি এ কে এম ওমর ফারুক, দৈনিক জবাবদিহি পত্রিকার প্রতিনিধি খালিদ হাসান মামুন, আমাদের মেঘনার প্রতিনিধি মোঃ রাফুল, দৈনিক সকাল প্রতিনিধি মোঃ তাজুল ইসলাম, সাপ্তাহিক বর্ণালী প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান, দৈনিক নয়া সকাল প্রতিনিধি ফখরুল ইসলাম সোহেল, দ্বীপ টিভির প্রতিনিধি মোঃ কাউছার, দৈনিক দেশ বার্তা পত্রিকার সুবর্ণচর প্রতিনিধি, তাহসিনুল আলম সৌরভ, দৈনিক বাংলার কণ্ঠের প্রতিনিধি এডভোকেট দেলোয়ার হোসেন সৈকত প্রমুখ। এ সময় নবাগত কমিটির সদস্যরা সবাই সুবর্ণচর উপজেলার প্রয়াত সিনিয়র সাংবাদিক মাষ্টার আহমদ উল্যাহ ও মাষ্টার আব্দুল কাইয়ুম এর স্বরণে একমিনিট নিরবতা পালন করেন।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় অবাধে চলছে অবৈধ ইট ভাটা।ড্রাম চিমনি অর্থাৎ বাংলা ভাটার জোয়ারে হুমকির মুখে কৃষি উৎপাদন।ড্রাম চিমনি দিয়ে নির্গত কালো ধোয়ায় পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া ইট ভাটায় জালানিতে ব্যবহৃত কাঠ পোড়ানোর ফলে শ্বাসকষ্টসহ ছড়িয়ে পড়ছে নানাবিধ রোগবালাই। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলায় প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় ৯টি অবৈধ ইট ভাটার কার্যক্রম জোরেশোরে চলছে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,কেউ কেউ কাঁচা ইট তৈরি শেষ করে ভাটা প্রস্তুতের কাজ চালিয়ে নিচ্ছে । আবার কোথাও একাধিক রাউন্ড ইট প্রস্তুত করে সাজিয়ে উচ্চমূল্যে বিক্রি করছে।অবৈধ ৯টি ইট ভাটার মালিক পক্ষকে খুবই তৎপর হয়ে প্রশাসন, মিডিয়া ম্যানেজে মাঠে নেমেছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভাটা মালিক প্রতিবেদকের কাছে ম্যানেজের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,”আমাদের হাত -পা বাঁধা, তাই বাধ্য হয়ে অবৈধ ব্যবসাটি পরিচালনা করতে প্রশাসনসহ সাংবাদিকদের ম্যানেজের প্রয়োজনে আমাদের মালিক পক্ষের একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে”। এর আগে গত বছর সুবর্ণচর উপজেলায় অবৈধ ইট ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসন ব্যপক অভিযান পরিচালনা করে অর্থদণ্ড এবং ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিলো। মেসার্স একেবি ব্রিকসকে ১লক্ষ টাকা জরিমানা, মেসার্স তাহেরা ব্রিকসকে ১লক্ষ টাকা জরিমানার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল, যমুনা ব্রিকস,মেসার্স মুক্তা ব্রিকস,আল্লারদান ব্রিকস ও আলিফ ব্রিকসকে যথাক্রমে ১ থেকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করে ভাটা গুলো ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। মুক্তা ও তাহিরা ব্রিকসের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দিয়েছিলো পরিবেশ অধিদপ্তর।এছাড়াও মেসার্স আইডা ব্রিকস,মেসার্স আমানত ব্রিকসকে জরিমানা করে ভেঙে দিয়েছিলো প্রশাসন। অবৈধ ইট ভাটা, পরিবেশ দূষণ,খাদ্য উৎপাদনকে হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়াসহ সার্বিক বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া আসফার সায়মা সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান,আমরা আগামীকালেই অভিযান পরিচালনা করছি।একদিনে হয়তো সবগুলোকে ভেঙে দেওয়া যাবে না।তবে পর্যায়ক্রমে সকল অবৈধ ইট ভাটা গুড়িয়ে দেওয়া হবে। এবিষয়ে নোয়াখালী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শওকত আরা কলি, অবৈধ ইট ভাটা বন্ধে অভিযান পরিচালনা করার কথা জানান। তিনি বলেন,আমরা প্রস্তুতি নিয়ে আছি অভিযানের জন্য। অভিযান পরিচালনা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে অচিরেই এদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ফের ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হবে।

প্রযুক্তি নির্ভর যুব শক্তি, বহুপাক্ষিক অংশীদারিত্বের অগ্রগতি এই প্রতিপাদ্দকে সামনে রেখে বেকার যুককও যুবনারীদেরকে নিয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর নোয়াখালী সুবর্ণচরে উপজেলা পর্যায়ে বসত বাড়িতে সবজি চাষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করেন। ৪ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় জুবলী স্কুল এন্ড কলেজে ৭দিন ব্যাপি অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষন কোর্স বসত বাড়িতে সবজি চাষের উদ্বোধন করেন সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাবেয়া আফসার সায়মা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাবা রায়েবা আফসার সায়মা বলেন বেকারত্ব রোধ ও স্বাবলম্বী হতে কৃষি প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। এসময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের কে আরো বলেন। বসত বাড়িতে সবজি চাষ করে সমাজের বেকার যুবক ও যুবনারীরা নিজেরকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে পারেন। এবং উক্ত প্রশিক্ষণের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হারুন অর রশীদ।এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ খুরশীদ আলম।সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সুবর্ণচর মোঃ সাইফুল আজম। জুবলী স্কুল এন্ড কলেজ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ হেলাল উদ্দিন। জুবিলী স্কুল এন্ড কলেজ প্রধান শিক্ষক মোঃ ওয়াহিদ উদ্দিন। এবং অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সদস্য জুবলী স্কুল এন্ড কলেজ ও সভাপতি যুব ফ্রেন্ডস ভিশন ২০০৫ এর, এম,এস,আই শাহিন।

নোয়াখালীর সুবর্ণচরের গৃহবধূ ১ সন্তানের জননী সাহেনা আক্তারকে শশুর পরিবারের সকল সদস্যদরা মিলে শারীরিক ও মানসিক টর্চার করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভূক্তভোগী গৃহবধূ সাহেনা হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নের মোহাম্মদ পুর গ্রামের বাসিন্দা এনায়েত ব্যাপারীর মেয়ে। সাহেনা অভিযোগ করে বলেন, গত ২০১৭ সালের ৫ই নভেম্বর ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক নোয়াখালীর সুবর্নচর উপজেলার ওয়াপদা ইউনিয়নের পূর্ব চর জব্বর গ্রামের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা করিমূল মোস্তফা ওরফে খন্তা মোস্তানের ছেলে জিহাদ হোসেনে সাথে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে নুর নবী নামে (বর্তমানে বয়স ৮ বছর) এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। বিয়ের পর হতে স্বামী, শশুর, ভাশুর রিয়াজ উদ্দিন, শাশুড়ী মাসুদা বেগম, ননদ ফেরদৌসী বেগম, সাহেনা বেগম, আইনুর বেগম ও রাহেনা বেগম আমার এবং আমার বাবার নিকট যৌতুকের দাবি করতে থাকে এবং একাধিকবার আমার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। সাহেনার বাবা এনায়েত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, মেয়ের সংসার রক্ষার্থে আমি একাধিকবার বর পক্ষকে নগদ অর্থ প্রদান করলেও তাদের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। পরবর্তীতে আমার মেয়ের স্বামী আলাদা ঘর নির্মাণের জন্য কৌশল করে আমার নিকট ৫ লক্ষ টাকা দাবি করে। আমি ধার-সুদে টাকা জোগাড় করে নগদ ৩ লক্ষ টাকা তাকে প্রদান করি, যা দিয়ে সে পাকা ঘর নির্মাণ করে এবং পরবর্তীতে বিদেশে চলে যায়। ভূক্তভোগী সাহেনা আরো অভিযোগ করেন, তার স্বামী বিদেশ যাওয়ার পর হতে সে ও সন্তানের ভরণ-পোষণ কিংবা কোন খোঁজ খবর নেয় নাই। অপরদিকে দেশে তার পরিবারের সদস্যরা আমাকে প্রায় গালিগালাজ, মারধর ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে। শুধু তাই নয়, গত ১ বছর পূর্বে শশুর- শাশুড়ী ও ননদেরা আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক দেড় ভরি স্বর্ণালংকার (দুইটি বালা, পাঁচটি আংটি ও কানের দুল) যা আমার বাবা বিয়ের সময় আমাকে দিয়েছিলো তা নিয়ে যায়। তাছাড়া প্রায়ই রাতের অন্ধকারে শশুর আমার কক্ষে প্রবেশ করিয়া জোরপূর্বক আমার সন্তানকে নিয়ে যেত। আমার বাবা যখন তাদের কাছে পাওনা টাকা চাই, তখন তারা বিভিন্ন তালবাহানা, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এই দিকে তারা একাধিকবার জানায় যে, আমি এবং আমার বাবা যদি এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করি তবে তারা আমাকে তালাক দিবে এবং আমাকে প্রাণে হত্যা করবে। গত ৮ মাস ধরে আমার স্বামী জিহাদ বিদেশে থেকেও স্ত্রী ও সন্তানের কোনো খোঁজখবর নেয় নাই। অন্যদি শশুর - শাশুড়ী এবং তাদের মেয়েরা নিয়মিতভাবে আমারকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি প্রদান করে এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন চালায়। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানালে তারা একাধিকবার সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন, কিন্তু তারা কোনো সালিশে হাজির হয় নাই এবং কোনো সমাধানেও আসেনি। বর্তমানে তারা আমাকে সংসার থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। তারা বলছে আমার স্বামী নাকি আমাকে তালাক দিয়েছে। কিন্তু আমি কোন তালাক নামা হাতে পায়নি। সর্বশেষ গত ২১ অক্টোবর দিবাগত রাত্রে তারা আমাকে বেদম মারধর শুরু করলে আমার সৌর চিৎকার শুনে প্রতিবেশী লাকী ও ছকিনাসহ আরো কযেক জন এসে আমাকে তাদের কবল থেকে উদ্ধার করে। পরদিন আমার বাবা স্থানীয় সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আমাকে অসুস্থ অবস্থায় তাদের বাড়ী থেকে এনে চর জব্বার হাসপাতালে ভর্তি করান। ভুক্তভোগী সাহেনা পুরোপুরি সুস্থ হলে আইনের আশ্রয় নেবে বলে জানান কনে পক্ষ।

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ নোয়াখালীর সুবর্ণচরে প্রবাসীর স্ত্রীর পরকীয়ার ঘটনাকে আড়াল করতে মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টার মামলা দিয়ে তদন্ত ছাড়াই নিরীহ দুই ব্যক্তিকে জেলে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে প্রবাসীর স্ত্রী শারমিন আক্তারের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার চর মজিদ গ্রামে সংবাদ সম্মেলন করে মামলার তিন স্বাক্ষী হোসনেয়ারা বেগম, আবদুল কাইয়ুম ও খতিজা খাতুন এই অভিযোগ তুলে ধরেন। স্বাক্ষীরা জানান, প্রবাসী মো. রাসেলের স্ত্রী শারমিন আক্তার গত ১৬ জুন রাতে নিজ ঘরে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে-নাতে ধরা পড়েন। পরে সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিরা পারিবারিক সম্মান রক্ষায় বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। কিন্তু তিন মাস পর প্রবাসী রাসেল দেশে ফিরে এলে শারমিন আক্তার তার পরকীয়ার ঘটনা ঢাকতে প্রতিবেশী মাকছুদ উদ্দিন, নবী ও মাহফুজুল হকের বিরুদ্ধে আদালতে ধর্ষণচেষ্টার ভুয়া মামলা দায়ের করেন। মামলার স্বাক্ষী হোসনেয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, “বাদী শারমিন আমার স্বামীকে মামলার তৃতীয় আসামি করে আমাকেও করেছে প্রথম স্বাক্ষী। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক কামরুন নাহার আমাদের কাউকে না জানিয়ে কিংবা কোন বক্তব্য না নিয়েই মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভুয়া জবানবন্দি ও স্বাক্ষর যুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন।” তিনি আরও বলেন, গত ৬ অক্টোবর সেই প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের পরই নিরপরাধ আসামি নবী ও মাহফুজুল হককে পুলিশ গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়। সংবাদ সম্মেলন থেকে আসামিদের নিঃশর্ত মুক্তি ও মামলার বাদী শারমিন আক্তার এবং তদন্ত কর্মকর্তা কামরুন নাহারকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ভুক্তভোগীরা ও মামলার স্বাক্ষীরা। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেয়। পরে তারা ভুয়া মামলা প্রত্যাহার এবং তদন্ত ছাড়াই ভুয়া প্রতিবেদন দাখিল করায় জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক কামরুন নাহারের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক কামরুন নাহার মুঠোফোনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সুবর্ণচর প্রতিনিধিঃ নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক ফ্রিজ মিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের চরকাজী মোখলেছ গ্রামে সাহেদ ডাক্তার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইমাম হোসেন (৩৪) উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়ন ২নম্বর ওয়ার্ডের মো.বোরহানের ছেলে এবং পেশায় একজন ফ্রিজ মিস্ত্রি ছিলেন। স্থানীয়রা জানায়, ইমাম হোসেন স্থানীয় আটকপালিয়া বাজার সাহেদ ডাক্তারের ভাড়াটিয়া শান্তর ফ্রিজ ঠিক করতে যায়। ওই সময় ফ্রিজের বিদ্যুতের সংযোগে হাত দিলে বিদ্যুস্পৃষ্টে ঘটনাস্থলে তিনি মারা যান। চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.শাহীন মিয়া বলেন, খবর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।