

নোয়াখালীর বসুরহাটে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বুলডোজার দিয়ে ব্যবসায়ী ফিরোজ আলম মিলনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ফিরোজ অ্যান্ড ব্রাদার্স’ এবং ‘হুমায়ুন টিম্বার অ্যান্ড স-মিল’ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাটি এখন অধিকতর তদন্তাধীন। বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জার প্রধান সহযোগী হিসেবে পরিচিত পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম ছারওয়ার বুলবুলসহ ৪৩ জনের বিরুদ্ধে এই লুটপাট ও ভাঙচুরের মামলা দায়ের করা হয়েছে। নোয়াখালী বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ২নং আমলি আদালত, সিআর মামলা নং- ৫৪৩/২০২৪ (কোম্পানীগঞ্জ)। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে বর্তমানে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ভোর রাত ৪টার দিকে আবদুল কাদের মির্জার নির্দেশে প্রায় ২০০-৩০০ জনের এক সশস্ত্র বাহিনী বসুরহাট পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে অবস্থিত ফিরোজ আলম মিলনের স'মিলে অতর্কিত হামলা চালায়। বুলডোজার দিয়ে মিলের সব স্থাপনা মুহূর্তেই মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়। ফিরোজ আলম মিলনের দাবি, ওই জমিটি তিনি ক্রয়সূত্রে মালিক এবং এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা ছিল। কিন্তু আদালতের তোয়াক্কা না করেই কোটি কোটি টাকার ফার্নিচার তৈরির মেশিন, লোহা ও সেগুন কাঠ লুট করে ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ওই জমিতে ‘শিশুপার্ক’-এর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দখল নিশ্চিত করেন তৎকালীন মেয়র ও তার অনুসারীরা। মামলার এজাহারে বসুরহাট পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম ছারওয়ার বুলবুলকে অন্যতম আসামি করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ এবং মামলার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী বুলবুল পৌরসভার সরকারি পদের অপব্যবহার করে আবদুল কাদের মির্জার ব্যক্তিগত বাহিনীর প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মিলনের সমিল গুঁড়িয়ে দেওয়ার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে প্রশাসনিক দোহাই দিয়ে উচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে তদারকি করেছিলেন, যা ছিল সম্পূর্ণ অবৈধ। দীর্ঘ তিন দশক ধরে একই পৌরসভায় কর্মরত থেকে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং হাট-বাজার ইজারা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তার এই বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মুছাপুর থানারহাটে নিজ বাড়িতে গত ডিসেম্বরে তিন তলা ভবন নির্মাণ সহ অবৈধ সাম্রাজ্য, বসুরহাটে স্ত্রী ফেরদৌস আরার নামে ফ্ল্যাট ক্রয়, চর এলাহীতে খামার বাড়ি ও মাছের ঘের, স্ত্রীর নামে ২১ ভরি স্বর্ণ ও বিদেশী প্রসাধনী সামগ্রী, ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অপির দামি মোটরসাইকেল সহ বিপুল অবৈধ সম্পদ রয়েছে। অপরাধ দুর্ণীতি করেও বিএনপির কিছু নেতা ম্যানেজ প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। ব্যবসায়ী ফিরোজ আলম মিলন বলেন, "কাদের মির্জার ডান হাত হিসেবে পরিচিত এই বুলবুলরাই আমাকে পথে বসিয়েছে। আদালতের ইনজাংশন থাকার পরও তারা ডাকাতের মতো আমার কারখানা লুট করেছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।" সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, অভিযুক্ত আসামীদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত গোলাম ছারওয়ার জানান, উপরের নির্দেশে আমি এসব করেছি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্ণীতি বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বিষয়টি এডিয়ে যান। বর্তমানে মামলার প্রধান আসামি আবদুল কাদের মির্জাসহ বেশিরভাগ অভিযুক্ত আত্মগোপনে থাকলেও গোলাম সরওয়ার বুলবুল প্রকাশ্যে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পৌরসভা প্রশাসনিক কার্যক্রম ও তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।