

নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবেদীন ফারুক বলেছেন, ‘তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী—স্বর্ণের চেইন পরা গলার কোনো সচ্ছল মানুষ যেন ফ্যামিলি কার্ড না পায়। সেদিকে আপনাদের কঠোর দৃষ্টি রাখতে হবে।’ শনিবার (১৬ মে) বিকেলে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ‘এক আইডি এক পরিবার’ কর্মসূচির আওতায় গরিব ও দুস্থ মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘মানুষের কাছে আড়াই হাজার টাকা বড় কথা নয়; বড় কথা হলো নেতা তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছেন।’ ভার্চুয়ালি যুক্ত হওয়া শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা কী পেয়েছি বা কী পাইনি, সেটা আমাদের বিবেচ্য নয়। আমরা সবার আগে পেয়েছি বাংলাদেশ। আমরা চাই দুর্নীতিমুক্ত, ঘুষমুক্ত ও কিশোর গ্যাংমুক্ত বাংলাদেশ। ইয়াবা ও রাস্তায় ইভটিজিং বন্ধের বাংলাদেশ। সর্বোপরি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সর্বোচ্চ উন্নয়ন চাই।’ অনুষ্ঠানে সেনবাগ উপজেলার ৪নং কাদরা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ৩৮৮ জন নারীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়। উপজেলা মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স ভবনে উৎসবমুখর পরিবেশে উপকারভোগী নারীদের হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হয়। এর আগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সারাদেশে একযোগে এই কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ৩৮৮টি উপকারভোগী পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোনে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে অর্থ সহায়তা পৌঁছে যায়। মোবাইল ফোনে অর্থ সহায়তার বার্তা পেয়ে উপস্থিত নারীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। পরে নির্বাচিত নারীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন জয়নুল আবেদীন ফারুক। মাদক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি যে অফিসার পাঠাবেন, সেখানে যদি কোনো বিএনপি নেতাও ইয়াবা ব্যবসায়ী হয়, সে কিন্তু পুলিশ অফিসারকে ম্যানেজ করবে। যেহেতু সরকার বিএনপির, সেদিকে আপনাকে নজর রাখতে হবে। সে বিএনপি হোক বা যে দলেরই হোক—ইয়াবা ব্যবসায়ী, রাস্তায় মেয়েদের ইভটিজার ও কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা যেদিন বন্ধ করতে পারবেন, সেদিনই আপনি একজন সৎ অফিসার।’ সেনবাগ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টি. এম. মোশাররফ হোসেন, সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জে. এম. মিজানুর রহমান, সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহসিয়া তাবাসসুম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূর পেয়ারা বেগমসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সুবিধাভোগীরা।