

দেশের প্রেক্ষাগৃহের স্থবিরতা নতুন কিছু নয়। শুধু বছরে দুটি ঈদ, আর তাতে কয়েকটি সিনেমা। এ সময়টা সিনেপ্রেমীরা যেমন এক উন্মাদনার মাঝে থাকেন, তেমনি মুখে হাসি (ব্যতিক্রম না ঘটলে) থাকে হল মালিকদেরও। কিন্তু বাকি সময়টা? দর্শকরা আশা করেন নতুন ছবির, হল মালিকেরাও চিন্তা করেন—সিনেমা হলটা অন্তত কোনোমতে টিকে থাকুক। শোনা যাচ্ছে, চলতি জুলাইয়ে চারটি সিনেমা মুক্তির মিছিলে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা পাওয়া সিনেমা ‘মাস্তুল’। মোহাম্মদ নুরুজ্জামান নির্মিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু। ১৭ জুলাই মুক্তি পাবে ছবিটি। সে লক্ষ্যে টুকটাক প্রচারণাও চালাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এ মাসে মুক্তির মিছিলে থাকা বাকি তিনটি সিনেমা হলো—প্রসূন রহমানের ‘শেকড়’, মুকুল নেত্রবাদীর ‘বাপজান’ এবং কামরুজ্জামানের ‘স্নেহের বন্ধন’। যদিও এসব ছবি নিয়ে তেমন কোনো প্রচারণাই দেখা যাচ্ছে না। সিনেমাভিত্তিক কিছু ফেসবুক পেজ থেকে ছবিগুলোর মুক্তির খবর জানানো হয়েছে, সেগুলোতে দর্শক রীতিমতো হাসাহাসি করছে। প্রশ্ন তুলছে ছবির মান নিয়েও। এখানেই শেষ নয়, মাসের এক সপ্তাহ শেষ হয়ে গেলেও হল মালিকরা এখনো জানেনই না, কোন সিনেমা আসবে পর্দায়! ছবিগুলো নিয়ে তাদের মনেও নেই কোনো আশা। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন ঢাকা পোস্টকে জানান, আসন্ন এই সিনেমাগুলো নিয়ে তিনি এখনো অবগত নন। তার কথায়, ‘প্রযোজক বা নির্মাতারা এখনো আমাদের কাছে এসে মুক্তির তারিখ চূড়ান্ত করেননি। তারা নিজেরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা বিষয়টি স্পষ্টভাবে বলতে পারব। আমরা তো অবশ্যই চাইব, এই সিনেমাগুলো ভালোভাবে দর্শকেরা দেখুক। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দর্শক টানা যায় না।’ ব্লকবাস্টার সিনেমাসের বিপণন বিভাগের কর্মকর্তা মাহবুব রহমান জানান, সাধারণত সিনেমা মুক্তির দুই-তিন দিন আগে প্রযোজকেরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বুকিং নিশ্চিত করেন। জুলাইয়ের এই সিনেমাগুলো নিয়ে এখনো কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। বলেছেন, “বর্তমানে হলের পরিচালন ব্যয় বা মেইনটেনেন্স খরচ চালানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন ভালো ছবি না থাকায় বাধ্য হয়ে পুরনো ছবি চালাতে হচ্ছে। পাইপলাইনে ‘সোলজার’ কিংবা সিয়ামের ‘আন্ধার’-এর মতো কিছু সিনেমা থাকলেও এই মুহূর্তে ভালো মানের কনটেন্ট বা দর্শক টানার মতো বাংলা সিনেমা আসা অত্যন্ত জরুরি।” অন্যদিকে স্টার সিনেপ্লেক্স এর বিপণন বিভাগের জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, জুলাইয়ে মুক্তির সম্ভাব্য সিনেমাগুলো নিয়ে তাদের কাছে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা আসেনি। সব সিনেমা তারা প্রেক্ষাগৃহে চালানও না; কনটেন্ট ভালো ও মানসম্মত হলেই কেবল চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। মেসবাহ বলেন, ‘সিনেমাগুলো আগে সেন্সর বা ছাড়পত্র পাক এবং মুক্তির চূড়ান্ত পরিকল্পনা হোক, তারপর প্রেক্ষাগৃহে চালানো হবে কি না সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। সিনেমা হলগুলো এখন ঈদকেন্দ্রিক হয়ে গেছে, পাশাপাশি হলও কমছে। এটা ভালো কনটেন্টের অভাবে হচ্ছে, যেটা চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য অমঙ্গল।’ এদিকে সিনেমা সচেতনরা মনে করছেন, যত দিন ঈদের বাইরেও সিনেমার বাজার গড়ে উঠবে না, ততদিন এভাবেই ধুঁকতে থাকবে ঢালিউড। বছরের শেষ দিকে ‘সোলজার’ ও ‘আন্ধার’ দিয়ে এই ‘অলিখিত’ উৎসব-প্রথা কাটবে কিনা, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষায় হল মালিকরা।